কর্ণফুলী সেতু সড়ক উন্নয়নের কাজ চলছে ধীরগতিতে

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০১:০৭

শাহ আমানত সংযোগ সড়কে উন্নয়ন কাজ ধীরগতিতে চলায় যাতায়াতকারীদের নিত্য ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। যানজটে ভেঙে পড়েছে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার যানজটে মানুষের অসহনীয় ভোগান্তিতে পড়তে হয়।  সেতুর উভয়পাশে দীর্ঘ ৮ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে গত বছরের মার্চে। আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মতে এই পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন কাজের ৩৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। ফলে নির্ধারিত মেয়াদে প্রকল্পের কাজের সমাপ্তি নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংশয়ের মধ্যে রয়েছে। আগামী বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রকল্প কর্মকর্তা জানান, গত ২০১৭ সালের মার্চে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। কর্ণফুলী সেতুর উত্তরপাশে বহদ্দারহাট পর্যন্ত ৬ লেনের ৫ কিলোমিটার ও সেতুর দক্ষিণপাশে ৪ লেনের ৩ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন কাজ চলছে। প্রকল্প ব্যয় হচ্ছে ২৭০ কোটি টাকা। প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে প্রায় এক বছর হচ্ছে। কিন্তু এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। কাজ ধীরগতিতে চলছে এমন অভিযোগ উঠেছে। এতে যাতায়াতকারীদের নিত্য ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

প্রকল্প ম্যানেজার ও দোহাজারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তোফায়েল মিয়া ইত্তেফাককে বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ শুরু করতে একটু বিলম্ব হয়েছে। গত বছর বৃষ্টির কারণে কয়েক মাস কাজ বন্ধ ছিল। এখানে অনেকগুলো কালভার্ট ও সেতু ভেঙে নির্মাণ করতে হচ্ছে। পিডিবি’র বৈদ্যুতিক লাইন সরাতেও সময় লেগেছে। প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে কাজ পুরো শেষ না হলেও একটা পর্যায়ে যেতে পারব বলে আশা করছি। আর যানজট নিরসনের বিষয়টি ট্রাফিক পুলিশের। আগে যে পরিমাণ রাস্তা ছিল ততটুকু দুইপাশে খালি রেখে নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে।’

এটি দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর যাতায়াতে একমাত্র সড়ক। দক্ষিণ চট্টগ্রাম ছাড়াও কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার বাসিন্দারা এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকেন। প্রতিদিন কয়েক           হাজার যানবাহন চলাচল করে। কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু চালু হওয়ার পর এই সড়কের ব্যস্ততা দ্বিগুণ বেড়েছে। প্রতিদিন শত শত কর্মজীবী নারী-পুরুষ শহরের কর্মস্থলে আসা-যাওয়ার সময় এই সড়ক ব্যবহার করেন এবং প্রতিদিনই তারা যানজটে পড়েন। আধা ঘণ্টার পথ যেতে সময় লাগছে দু’ঘণ্টা। এই নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। তা ছাড়া এই সড়ক দিয়ে বন্দরনগরীর বাণিজ্যিক কেন্দ্র চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ থেকে দিনে-রাতে শত শত পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। বহদ্দারহাট মোড় থেকে কর্ণফুলী সেতু পর্যন্ত গণপরিবহনে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে অসংখ্য ছোট আকৃতির মাহিন্দ্র, টেম্পু ও ভটভটি।

সিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগ জানায়, চান্দগাঁও থানার মোড় থেকে কর্ণফুলী সেতু পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কে ট্রাফিক পুলিশের দৈনিক প্রায় ৫০ জন লোক দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এদের মধ্যে সার্জেন্ট ও টি আই রয়েছে প্রায় ১২ জন। তারপরও যানজট সহনীয় পর্যায়ে রাখা যাচ্ছে না।

ইত্তেফাক/নূহু