বেতন রাজস্বকরণের দাবিতে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা ঢাকায় লাগাতার কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করায় কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ৪৪টি কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। গত ৩০ দিন যাবত্ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বন্ধ থাকায় উপজেলার প্রায় চার লক্ষাধিক মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর হাতের নাগালে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালে তত্কালীন আওয়ামী লীগ দলীয় সরকার সারাদেশের ন্যায় নাঙ্গলকোটেও ৪৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করে। কিন্তু ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তনের পর তত্কালীন বিএনপি দলীয় চারদলীয় জোট সরকার কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। বর্তমান সরকার ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে আবারো কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম চালু করে।
২০১০ সালে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর জন্য ১৩৮৬১জন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার নিয়োগ প্রদান করেন। এরপর মানুষকে পর্যাপ্ত সেবা দিতে ওষুধ সরবরাহ করেন। শুরু থেকেই ক্লিনিকে কর্মরত হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা মানুষকে পর্যাপ্ত সেবা দিয়ে আসলেও তাদের চাকরি রাজস্বকরণ হয়নি। এছাড়া তারা নিয়মিত বেতন পেতেন না। তিন মাস পর পর বেতন পেতেন। ফলে চাকরি রাজস্বকরণের দাবিতে গত ২০, ২১ ও ২২ জানুয়ারি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বন্ধ রেখে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থান নেন প্রোভাইডাররা। ওই কর্মসূচিতে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগ দিচ্ছেন নাঙ্গলকোটের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা। ফলে প্রতিদিন চিকিত্সাসেবা নিতে আসা গ্রামের শত শত রোগী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের রামেরবাগ গ্রামের আফরোজা আক্তার ও কনক, পেড়িয়া ইউনিয়নের শ্রীফলিয়া গ্রামের রিপন, খোসারপাড় গ্রামের বেলাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে আমরা চিকিত্সা নিতে ক্লিনিকে আসলেও ক্লিনিক বন্ধ থাকায় বাড়তি টাকা খরচ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ জেলা শহরে গিয়ে চিকিত্সা নিতে হচ্ছে। আমরা শিগগিরই এ দুর্ভোগের অবসান চাই।
নাঙ্গলকোট উপজেলা কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিন উদ্দিন বলেন, আমাদের চাকরি রাজস্বকরণ না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে। এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবদাস দেব বলেন, আমরা স্বাস্থ্য সহকারীদের দিয়ে তিন দিন, পরিবার পরিকল্পনা সহকারীদের দিয়ে তিন দিন স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখার চেষ্টা করছি। তবে স্বাস্থ্য সহকারী রয়েছে মাত্র ১৭জন। এজন্য আমরা চাইলেও প্রতিদিন সবগুলো কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রাখতে পারছি না।
ইত্তেফাক/নূহু
