তিস্তা ব্যারাজের সেচ প্রদানের কমান্ড এলাকা নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ক্যানেল সংস্কারের নামে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ক্যানেল সংস্কার না করে সেচ প্রদান করায় গত ১৪ মার্চ পানির চাপে এস সেভেনটি ক্যানেলের পার ভেঙ্গে গিয়ে উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের মুশরত পানিয়াল পুকুর গ্রামের ৫০জন কৃষকের বোরো, ভুট্টা, গমসহ বিভিন্ন জমি প্লাবিত হয়। এতে ক্ষয়ক্ষতিয় পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২০ লাখ টাকা।
এ ঘটনায় কৃষকরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সৈয়দপুর ডিবিশনের কিশোরগঞ্জ উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানকে দায়ি করে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্তাবধায়ক প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়ে সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে তার বিচার দাবি করে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, চলতি খরিপ-১ মৌসুমে তিস্তা ব্যারাজ হতে নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলায় ২৯ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সেচ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করে সেচ কার্যক্রম চালু করা হয়। এর মধ্যে নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমি। চলতি মৌসুমে দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্প সেচ কার্যক্রম গত ২৮ জানুয়ারী হতে শুরু হলেও কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা বিভিন্ন ক্যানেলের মাধ্যমে সেচ পায় ফেব্রুয়ারী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে।
উপজেলার সসাধারণ কৃষকরা জানায়, সেচ প্রদানের জন্য প্রতি বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সৈয়দপুর ডিবিশনের পক্ষে সেচ ক্যানেলগুলো সংস্কার করে থাকে। কিন্তু চলতি বছর তারা কোন সেচ ক্যানেল সংস্কার করেছে এমন চিত্র কৃষকরা দেখতে পায়নি। অভিযোগ ঊঠে কিশোরগঞ্জ উপজেলায় গত বছর (২০১৭-২০১৮ অর্থবছর) এস সেভেন্টি সেচ ক্যানেলটি ২৩ লাখ ও চলতি বছর (২০১৮-২০১৯ অর্থবছর) সাড়ে চার লাখ টাকা ও এস ওয়ান বি সেচ ক্যানেল এবং টি ওয়ান বি ক্যানেল দুইটি দুই লাখ করে চার লাখ টাকায় এবার সংস্কার দেখানো হয়। এ অবস্থায় গত ১৪ মার্চ এস সেভেন্টি ক্যানেলের নিতাই ইউনিয়নের মুশরত পানিয়াল পুকুর গ্রামের পানির চাপে ক্যানেল ভেঙ্গে ২০ ফুট বিধ্বস্থ হয়। এতে ওই ক্যানেলে সেচ প্রদান বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: সিঙ্গাপুরে বাংলা নববর্ষ বরণ
ওই এলাকার আবুল হোসেন, সিরাজুল ইসলাম জহির উদ্দিন মোশাররফ হোসেন ও রুহুল আমিনসহ একাধিক কৃষক জানায়, 'আমরা ভেঙ্গে যাওয়া ক্যানেলটি দ্রুত মেরামত করে সেচ কার্যক্রম চালু করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সৈয়দপুর ডিবিশনের কিশোরগঞ্জ উপজেলায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানকে বার বার তাগাদা দিয়ে আসছি। কিন্তু তিনি তার ইচ্ছেমতো গত এক সপ্তাহ আগে ওই বিধ্বস্থ ক্যানেলটি কোন রকমে মাটি দিয়ে মেরামত করেন'। এছাড়াও কৃষকরা তারা এ ঘটনায় রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছে বলেও জানান।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারের পক্ষে এই উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ধাইজান নদী এবং চাঁড়ালকাটা নদী মিলে মোট ৫৩ কোটি টাকা ব্যায়ে ৪১ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হচ্ছে। সেখানে অনিয়ম করা হচ্ছে। নদী পুনঃখননের ওই কাজের তদারকিতে রয়েছে উক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান।

এদিকে নিতাই ইউনিয়নের বেলতলি গ্রামের কৃষক আখতারুজ্জামান দুলু মিয়া অভিযোগ জানান, 'এস সেভেনটি সেচ ক্যানেলের পাড়সহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি অবৈধভাবে দখল করে সেখানে বেশ কিছু প্রভাবশালী ২৫টি বসত ঘর ও স্কুল তৈরী করেছে। বিষয়টি আমি উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানকে অবগত করি। কিন্তু পরে জানতে পারি এ ঘটনার সঙ্গেও তিনিও জড়িত। ফলে উল্টো মিথ্যে মামলায় পুলিশ দিয়ে আমাকে জেলে পাঠানো হয়। আমি ৭ দিন পর জামিনে ছাড়া পাই'।
এ বিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনটিই সঠিক নয়। এস সেভেন্টি ক্যানেলটি প্রতি বছরের ন্যায় এবারও সংস্কার করা হয়েছে। রাতের আধারে কে বা কারা ক্যানেলের পাড় ছিদ্র করে পানি নেওয়ার চেস্টার সময় ওই বাধটি বিধ্বস্থ হয়। যা ঘটনার তিন মধ্যে মেরামত আবার করে দেওয়া হয়।
সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কৃষ্ণ কমল সরকারের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, 'ভেঙ্গে যাওয়া এস সেভেনটি ক্যানেলটি মেরামত করা হয়েছে। আর যদি কেউ অবৈধভাবে সরকারি জায়গায় ঘর নির্মাণ করে থাকে তাহলে সরেজমিন পরিদর্শন করে সরকারি কর্মকর্তাসহ কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে'।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
