বইমেলায় চলছে বেচাকেনার পালা। মানুষ দল বেঁধে আসছেন শুধুই বই কিনতে। ঘুরে ফিরে আড্ডা দেওয়া চলছে কিন্তু বই কেনাই যেন এখন প্রধান কাজ। মেলা এখন প্রতিদিনই জমজমাট। এদিকে, আজ সাপ্তাহিক ছুটির দিন তাই বেলা ১১টায় শুরু হবে মেলা। রয়েছে শিশুপ্রহরও। এদিকে, গতকাল মেলার বাড়তি আকর্ষণ ছিল আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুদিনের এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেছিলেন পয়লা ফেব্রুয়ারি। গতকাল শুরু হলো সেই কার্যক্রম। সম্মেলনে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানসহ ছয়টি দেশের শতাধিক লেখক, শিক্ষাবিদ ও গবেষক যোগ দিয়েছেন। গতকাল মেলায় এসেছিলেন ভারতের অনুবাদক ও গবেষক রাধা চক্রবর্তী, অরুণা চক্রবর্তী, শ্রীলঙ্কার সাহিত্যিক ও ইমেরিটাস অধ্যাপক জি বি দিশানায়েক, কলম্বিয়ার কথাসাহিত্যিক আন্দ্রেজ মাউরিসিয়ো মুনজ, ভারতের নাট্যজন অংশুমান ভৌমিক প্রমুখ। দেশ-বিদেশের সাহিত্যিকদের আনাগোনায় লেখক-পাঠকদের মাঝে নতুন যোগাযোগের ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছিল। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ছিল আলোচনা, তবে সেসব আলোচনার ফাঁকে বইমেলায় লেখকদের ছিল সরব পদচারণা। বইমেলা বা আলোচনাই শুধু নয়, গ্রাম-বাংলা পল্লী গানের সুরে মেতে উঠেছিল অনুষ্ঠান মঞ্চও। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন আলম দেওয়ান, শফিউল আলম রাজা, আঁখি আলম এবং আমজাদ দেওয়ান। এদিকে, গতকাল বইমেলায় নতুন বই এসেছে ১০৩টি।
আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনে দিনভর আলোচনা
গতকাল শুরু হলো একাডেমির উদ্যোগে দুদিনের দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক সাহিত্য শীর্ষক আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন। সকালে একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. ফকরুল আলম। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের অনুবাদক ও গবেষক রাধা চক্রবর্তী। সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।
ড. ফকরুল আলম বলেন, দক্ষিণ এশিয় লেখকদের সাহিত্যে প্রান্তীয় মানুষের স্বর যেমন ওঠে আসে, তেমনি নতুন এক সাহিত্যরীতিরও এ অঞ্চলের লেখকেরা জন্ম দিয়ে চলেন; যার মধ্যে সময়-দেশ ও মানুষের মহাস্বরই প্রতিধ্বনিত হয়ে চলে। রাধা চক্রবর্তী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক সাহিত্যে নানান অভিমুখ পরিলক্ষিত হলেও মানবমুখী প্রবণতাই প্রধান।
অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ঔপনিবেশিক বাস্তবতা দক্ষিণ এশিয়ার সাধারণ মানুষকে যেমন স্বাধীনতার অদম্য স্পৃহা দান করেছে তেমনি এ অঞ্চলের লেখকদের মাঝে নতুন সাহিত্যিক রূপরীতি অনুসন্ধানের মানস গঠন করেছে। শামসুজ্জামান খান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক সাহিত্যের গতি-প্রকৃতি অনুধাবনে এ ধরনের সম্মেলন বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ এশিয়ার কথাসাহিত্য বিষয়ে ভারতের লেখক অরুণা চক্রবর্তী এবং বাংলাদেশের ড. ফিরদৌস আজিমের আলাপচারিতা। তারা বলেন, সাহিত্যিককে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে নবায়ন করে নিতে হয়।
বিকালে অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ এশিয়ার কথাসাহিত্য শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে মূল বক্তব্য উপস্থান করেন রিফাত মুনিম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, শ্রীলঙ্কার সাহিত্যিক ও ইমেরিটাস অধ্যাপক জি বি দিশানায়েক, কলম্বিয়ার কথাসাহিত্যিক আন্দ্রেজ মাউরিসিয়ো মুনজ এবং খালিকুজ্জামান ইলিয়াস। বক্তারা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার কথাসাহিত্যিকরা যেমন শিল্পমান সম্পর্কে সচেতন তেমনি মানুষের অধিকারের কথা নতুনতর গদ্যরীতিতে পরস্ফুিট করছেন।
এরপর অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ এশিয়ান থিয়েটার বিষয়ক আলোচনাপর্ব। এতে মূল বক্তব্য উপস্থান করেন রামেন্দু মজুমদার। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন শফি আহমেদ, নাসিরউদ্দিন ইউসুফ এবং ভারতের নাট্যজন অংশুমান ভৌমিক।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ পুরস্কার প্রদান
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অমর একুশে গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে বাংলা একাডেমি পরিচালিত সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ পুরস্কার ২০১৭ প্রদান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি। সভাপতিত্ব করেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ পুরস্কার ২০১৭-তে ভূষিত হয়েছেন কানাডাপ্রবাসী কবি মাসুদ খান এবং যুক্তরাজ্যপ্রবাসী কবি মুজিব ইরম। পুরস্কারপ্রাপ্ত কবিদের পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫০,০০০.০০ টাকার চেক, পুষ্পস্তবক এবং সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও সভাপতি।
ইত্তেফাক/নূহু
