পবা’র সেমিনারে বক্তারা

বিনা ভাড়ায় পাবলিক বাস পৃথক লেনে দেয়া সম্ভব

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৯:৫৮
যানজট সংশ্লীষ্ট কারণে বর্তমানে যে পরিমাণ ব্যয় হচ্ছে, তা দিয়ে বিনা ভাড়ায় পৃথক লেনে জনগণকে পাবলিক বাসের সুবিধা দেয়া সম্ভব। ঢাকায় ৬ শতাংশ মানুষ প্রাইভেট গাড়ি দিয়ে ৭৬ ভাগ সড়ক দখল করে আছে, তাই প্রাইভেট গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করে সকল রাস্তায় পৃথক লেনে পাবলিক বাস চলাচল নিশ্চিত করা জরুরি। জনগণের জন্য গণপরিবহনের সুবিধা বৃদ্ধি না করে ভিআইপিদের জন্য পৃথক লেনের প্রস্তাবনা একটি অবাস্তব এবং জনবিছিন্ন চিন্তা বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ বাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। 
 
শনিবার পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) কার্যালয়ে আয়োজিত ‘পৃথক লেনে পাবলিক বাস/প্রস্তাবিত ভিআইপি লেনের প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। এই সেমিনারের আয়োজন করে পরিবেশবাদী সংগঠন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)।
  
সভা প্রধানের বক্তব্যে পবা’র চেয়ারপারসন আবু নাসের খান বলেন, ঢাকার অধিকাংশ রাস্তায় পাবলিক পরিবহন চলাচল করতে দেয়া হয় না। নব্বই দশকে ঢাকার পাবলিক পরিবহনের সংখ্যা ছিল ১১ হাজার, ২০০৮ সালে ঢাকায় গণপরিবহনের সংখ্যা ছিল ৮ হাজার। নানা সমস্যার কারণে ২০১৫ সালে এই সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে সাড়ে তিন হাজারে। 
 
পরিসংখ্যান বলছে, রাজধানীর প্রতি ৩ হাজার যাত্রী যাতায়াতের জন্য বাস ও মিনিবাস আছে মাত্র ১টি। তাছাড়া সংখ্যা হ্রাসের এই হারটি খুবই উদ্বেগজনক। সাধারণ মানুষের চলাচলের কথা বিবেচনা না করে ভিআইপি রোডের নাম শুধুমাত্র প্রাইভেট গাড়ি চলাচলের জন্য এ উদ্যোগের প্রেক্ষিতে ঢাকার বিভিন্ন রাস্তায় শুধু রিকশা বন্ধ করা হয়। অনেক মানুষই চলাচলের জন্য বাধ্য হয় প্রাইভেট গাড়ি কিনতে। ঢাকায় প্রতিদিন নামছে ৩১৭টি প্রাইভেট কার। ধীরে ধীরে এ নগর আজ প্রাইভেট গাড়ির জটে পরিণত হয়েছে। আর এ সকল প্রকল্পের কারণে শহরে বেড়েছে যানজট এবং পরিবেশ দূষণ।
 
পবা’র সাধারণ সম্পাদক প্রকৌ. মো. আবদুস সেবাহান বলেন, নিউইয়র্ক, লন্ডন, সিউলসহ বিশ্বের ১৪টি বড় বড় শহরে পৃথক লেনের ব্যবস্থা আছে। এসব শহরে প্রাইভেট গাড়ি নিয়ন্ত্রণ এবং গণপরিবহন ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহী করা হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা শহরের পৃথক একটি লেনে পাবলিক পরিবহন চলাচলের ব্যবস্থা করা গেলে কম সময়ে অনেক বেশি যাত্রী নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে।
 
পবা’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, বাসের জন্য পৃথক লেনের ক্ষেত্রে নজর দিতে হবে, ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে প্রাথমিকভাবে স্থানান্তরযোগ্য ডিভাইডার অথবা রোড মার্কিং করে বাসের জন্য পৃথক লেন তৈরি; আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে পৃথক লেনে অন্য যানবাহন প্রবেশ না করতে নির্দেশনা প্রদান; শুধু অ্যাম্বুলেন্স, অগ্নিনির্বাপণ গাড়ি এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি এই লেন ব্যবহার করতে পারবে। বাসগুলোর চলাচল জিপিআরএসের মাধ্যমে নজরদারিতে রাখা জরুরি। সেই সঙ্গে কোনো স্বার্থানেষী গোষ্ঠী বিআরটিসির বাস চালাচল যাতে ব্যাহত না হয়, তার জন্য গোয়েন্দা নজরদারির ব্যবস্থাও রাখা যেতে পারে।
 
ইত্তেফাক/এমআই