৫ মাসের বকেয়া বেতন ও ২২ মাসের প্রভিডেন্ট ফান্ডের দাবিতে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) চলমান আন্দোলন নিরসনে সাড়ে ৪ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে কোনো সুরাহা হয়নি। মেয়র পর্যায়ক্রমে বেতন পরিশোধের কথা জানালে তা প্রত্যাখ্যান করেন আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। নিষ্ফল এ বৈঠক শেষে তারা রবিবার থেকে পুনরায় লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বৈঠক শেষে উত্তেজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সম্পূর্ণ বকেয়া আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
বেলা ১১টায় বিসিসির সভাকক্ষে মেয়র মো. আহসান হাবিব কামাল, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়াহেদুজ্জামান, সচিব মো. ইসরাইল হোসেন, প্যানেল মেয়র কেএম শহিদুল্লাহ, মোসারেফ হোসেন বাদশা, শরীফ তাছলিমা কালাম পলি, সাবেক দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র বর্তমান কাউন্সিলর আলতাফ মাহমুদ সিকদার, কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান টিপুসহ ২২জন কাউন্সিলরসহ আন্দোলনকারী নেতারা বৈঠকে বসেন। বৈঠকে মেয়র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পর্যায়ক্রমে বেতন পরিশোধে রাজি হন। মেয়রের এ প্রস্তাবে রাজি হয়নি আন্দোলনরত কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
বৈঠক শেষে আন্দোলনকারী নেতা পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মকর্তা দিপক লাল মৃধা জানান, তারা বকেয়া বেতন একসাথে না পাওয়া পর্যন্ত কাজকর্মে যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মেয়র ইতিপূর্বে এ ধরনের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করেননি। তাই এবার সকল বকেয়া আদায় শেষে তারা কাজে যোগদান করবেন। সে অনুযায়ী আজ রবিবার সকাল থেকে তাদের কর্মসূচি চলবে।
বিসিসি মেয়র মো. আহসান হাবিব কামাল জানান, জানুয়ারি মাসে নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দু’মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। মার্চের প্রথম সপ্তাহে এক মাসের এবং পরবর্তী মাসগুলোতে দু’মাসের টাকা একত্রে দিয়ে নিয়মিত বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা নেয়া হবে। বৈঠকে তিনিসহ তার পরিষদের সকলেই আন্দোলনরতদের বিষয়গুলো বুঝিয়ে বললেও তারা তা মানছে না। তিনি বলেন বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হবে মন্ত্রণালয়কে।
এদিকে গত কয়েকদিনের আন্দোলন এবং বৈঠকে কোনো সুরাহা না হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উত্তেজিত হয়ে নানান স্লোগান দিতে থাকে। বিকেলে তারা জড়ো হয়ে দাবি আদায় না হওয়ায় পর্যন্ত সিটি কর্পোরেশন অচল করে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়ায় যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ।
ইত্তেফাক/আরকেজি
