সিলেটে জলমহালে বাড়ছে মাছ লুটপাট, খুনোখুনি

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০১:০৪

সিলেটের জলমহালগুলোতে মাছ লুটপাট ও সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা বেড়েই চলেছে। দিরাইয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জলমহালের দখল নিয়ে সংঘর্ষে ১ জন নিহত হয়েছে। একই দিন ধর্মাপাশা উপজেলায় আরেকটি জলমহালে মাছ লুটের ঘটনা ঘটে। এ সময় এলাকাবাসী পুলিশের সহযোগিতায় দেশীয় অস্ত্রসহ ৪১ জনকে আটক করেন। এই ঘটনায় অন্তত ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জলমহালগুলোতে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। পাহারাদাররা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে। উধাও হয়ে গেছে ইজারাদারদের চোখের ঘুম ।

দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের টাংনি জলমহালের পাশের তেতৈয়া গ্রামের বাসিন্দা কুলঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান ও একই  গ্রামের ডুনেল মিয়ার মধ্যে জলমহালের দখল নিয়ে বিরোধের জের ধরে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে গেলে নিহত হন ওই গ্রামের মজনু মিয়া (৬০)। আহত হন আরো ৪ জন। তাদের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  ভর্তি করা হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজপুর দক্ষিণ  ইউনিয়নের ডুবাইল গ্রুপ জলমহালে মাছ লুটের ঘটনায় যাদের আটক করা হয় তারা নেত্রকোনা জেলার বাসিন্দা। তাদের ধর্মপাশা থানায় সোপর্দ করা হয়।  সুবংশপুর রূপালী মত্স্যজীবী সমবায় সমিতির অধীনে এ জলমহালটি ইজারা দেওয়া রয়েছে। ভোরে নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে কয়েক হাজার মানুষ এ জলমহালে সংঘবদ্ধ হয়ে মাছ ধরতে যায়। ইজারা পাওয়া কর্তৃপক্ষের  লোকজন তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পুলিশে অভিযোগ জানানোর পর তারা ৪১ জনকে আটক করে। অন্যরা পালিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়— ওই চক্র  মাছ ধরার জাল, পলো, দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জলমহালে নামে।

স্থানীয়রা বলছেন, সিলেটের অনন্য প্রাকৃতিক সম্পদ হাওর। এগুলো একদিকে জীববৈচিত্র্যের আধার। অন্যদিকে নানা প্রজাতির মাছের অভয়াশ্রম। বেশির ভাগ হাওর সরকারি সম্পত্তি। এগুলো প্রতি তিন বছর বা বিভিন্ন মেয়াদে সরকার ইজারা দিয়ে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে। কিন্তু লুটেরা চক্র পেশিশক্তির বলে লুটে নেয় লাখ লাখ টাকার মাছ। ফলে মত্স্যজীবী ও ইজারাদাররা অসহায় হয়ে পড়ে।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি ছাতকে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ২০ জন আহত হন। দোলারবাজার ইউপির কুড়া-চাতল বিলের দখল নিয়ে এ সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ৩ জনসহ ৬ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  সুনামগঞ্জ জেলার  তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওর সংলগ্ন পটলাই জলমহালে মাছ লুটের খবর পেয়ে  একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুলিশ সেখানে গেলে লুটপাটকারিরা তাদের উপর হামলা চালায়। এতে পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট, আনসার ও নৌকার মাঝিসহ আহত হন ৬ জন। জলমহাল নিয়ে এ ধরনের ছোট-বড় সংঘর্ষ প্রায়শই ঘটছে।

ইত্তেফাক/নূহু