খুলনায় যুবক শাহজালালের দুই চোখ উৎপাটন মামলা পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রবিবার দুপুরে খুলনা মহানগর হাকিম মো. শাহীদুল ইসলাম বাদীর নারাজি পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের উপ-কমিশনার। এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত প্রতিবেদনের বিরদ্ধে বাদী নারাজি পিটিশন দাখিল করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদী আদালতে নারাজি পিটিশন দাখিল করেন। রবিবার শুনানি শেষে আদালত মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য কেএমপির ডিসি ডিবিকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আগামী ২৫ মার্চ মামলার শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে। এর আগে আদালতে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে পিবিআই পরিদর্শক মো. বাবলুর রহমান খান উল্লেখ করেন, মামলার প্রধান আসামি খালিশপুর থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ মো. নাসিম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। একইভাবে আসামি এএসআই রাসেল, এসআই তাপষ কুমার পাল, এসআই মো. মোরসেলিম মোল্লা, এসআই মো. মিজানুর রহমান, কনস্টেবল আল মামুন, আনসার সদস্য মো. আফসার আলী, ল্যান্স নায়েক আবুলহাসেম, আনসার নায়েক রেজাউল হক, এসআই মো. নূর ইসলাম, এসআই সৈয়দ সাহেব আলী, সুমা আক্তার এবং মো. রাসেলের বিরুদ্ধেও অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো সত্যতা পায়নি পুলিশ।
গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিমের আমলি আদালতে দাখিল করা শাহজালালের মা রেনু বেগম এজাহারে উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালের ১৮ জুলাই শাহ জালাল মহানগরীর নয়াবাটি রেললাইন বস্তি কলোনির শ্বশুর বাড়ি থেকে রাত ৮টায় মেয়ে শিশু দুধ কেনার জন্য বাসার পাশে দোকানে যান। এ সময় খালিশপুর থানা পুলিশের ওসি নাসিম খানের নির্দেশে তাকে থানায় ডেকে নেয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা থানায় গেলে ওসি তাকে ছাড়ানোর জন্য দেড় লাখ টাকা দাবি করেন। দাবি করা টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ কর্মকর্তারা শাহজালালকে পুলিশের গাড়িতে করে বাইরে নিয়ে যায়। গত ৯ জুলাই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তাকে দুটি চোখ উপড়ানো অবস্থায় দেখতে পান তার পরিবারের সদস্যরা।
পরে শাহজালাল জানান, পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে গাড়িতে করে গোয়ালখালী হয়ে বিশ্ব রোডের (খুলনা বাইপাস সড়ক) নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তার হাত-পা চেপে ধরে এবং মুখের মধ্যে গামছা ঢুকিয়ে স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে দুটি চোখ উপড়ে ফেলে। এ ঘটনায় শাহজালালের মা রেনু বেগম বাদী হয়ে ১১ পুলিশ ও আনসার কর্মকর্তাসহ ১৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
ইত্তেফাক/ইউবি
