হাজারো মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও সাবেক এমপি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু। সোমবার বিকেলে রংপুর মহানগরীর বড় নুরপুর কবরস্থানে পিতা-মাতার পাশেই তাকে সমাহিত করা হয়।
এরআগে রংপুর পুলিশ লাইন মাঠে মরহুমের দ্বিতীয় জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রংপুর সিটি কর্পোরেশনসহ রংপুর বিভাগের হাজার হাজার মানুষ শরিক হন। সেখানে ঝন্টুর কফিনে জাতীয় পতাকা আচ্ছাদিত করা হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা গার্ড অব অনার প্রদান করেন।
এ সময় রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানসহ আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি (জাপা), মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জাসদ (ইনু), বাসদ, কমিউনিস্ট পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি এবং বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা তাকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আছরের নামাজে পর থেকে রংপুর পুলিশ লাইন মাঠে নানা শ্রেণিপেশা ও বয়সের মানুষের ঢল নামে। জানাযা শুরুর আগে জনসমুদ্র হয়ে যায় পুলিশ লাইন মাঠ। জানাযায় ইমামতি করেন গুপ্তপাড়া বাইতুল শাহজাদা জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মাহমুদ উল্ল্যাহ।
এদিকে দুপুরে এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ ঢাকা থেকে রংপুরে নিয়ে আসা হলে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েন রংপুরবাসী। সকলে একনজর দেখার জন্য ছুটে চলে যান গুপ্তপাড়াস্থ ঝন্টুর বাসভবনে। এ সময় সেখানে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। পড়ে যায় কান্নার রব। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি রাতে তিনি মস্তিস্কে রক্তক্ষরণজনিত রোগে আক্রান্ত হলে ঝন্টুকে রংপুর মহানগরীর সেন্ট্রাল ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। পরদিন ১ ফেব্রুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যাল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ২৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রবিবার তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
ইত্তেফাক/আরকেজি
