মতলব উত্তর উপজেলার তিন আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। বিশুদ্ধ পানির অভাব, শৌচাগারগুলো ব্যবহার অনুপযোগী, বেশির ভাগ ঘর জরাজীর্ণ এবং কর্মসংস্থানের অভাবে প্রতিনিয়ত জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ২৬০ পরিবারের সহস্রাধিক বসতি।
মতলব উত্তর উপজেলার বেলতলী আশ্রয়ণ প্রকল্প, দুর্গাপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প ও এখলাছপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ঘরেরই টিন নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া রয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সমস্যা।
বেলতলী আশ্রয়ণ প্রকল্পের ছয়টি ব্যারাকে ৬০টি ঘর। এর মধ্যে ২০টি পরিবার ব্যারাক ছেড়ে চলে গেছে। ছয়টি টয়লেটের মধ্যে তিনটি ব্যবহারের অযোগ্য। তিনটি নলকূপের মধ্যে দুটিই অকেজো। গোসল, হাড়ি-পাতিল ও কাপড়-চোপড় ধোয়ার একমাত্র ভরসা পার্শ্ববর্তী নদী। নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-শিশু কারোর চিকিত্সার জন্য নেই কোনো ব্যবস্থা। এখানকার অর্ধেকেরও বেশি শিশু স্কুলে যায় না। কিছু শিশু স্কুলে ভর্তি হলেও তারা একেবারেই অনিয়মিত।
এ প্রকল্পের সভাপতি জহির উদ্দিন বলেন, ঘরের চালের টিন নষ্ট। বৃষ্টি অইলেই ঘরের ভিতর পানি পরে, ঘরে থাকা যায় না। এছাড়া অধিকাংশ সময়ই কাজ থাহে না। এতো সমস্যা লইয়া অনেক কষ্টে দিন কাটাইতাছি।
দুর্গাপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের সাতটি ব্যারাকে ৭০টি ঘর রয়েছে। এর মধ্যে ৩০-৩২টি ঘর একেবারেই বসবাসের অযোগ্য। ফলে ওই ঘরের পরিবারগুলো প্রকল্প ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। সাতটি টয়লেটের মধ্যে চারটিই ব্যবহার অনুপযোগী। খাবার পানির জন্য চারটি নলকূপ থাকলেও একটি মাত্র ব্যবহার উপযোগী। ফলে বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এ প্রকল্পের বাসিন্দারা। এ আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি কালীপদ বলেন, আমরা খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।
এদিকে এখলাছপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের চিত্রও একই। মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার বলেন, বেলতলী আশ্রয়ণ প্রকল্পের কয়েকজন আমার কাছে এসে তাদের সমস্যার কথা জানিয়েছে। ঘরগুলো পুনঃসংস্কারসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
