পাকা সড়কে নরম মাটির প্রলেপ

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১০:১৩
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন পাকা সড়কে বৃষ্টির কারণে নরম কাঁচা মাটির প্রলেপ পড়ায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। বিশেষ করে গত রবিবার রাতের বৃষ্টির পর সড়কগুলো যাতায়াতে বিপদজনক হয়ে উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ ওইসব সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াত। কিন্তু পাকা সড়কের উপরে কাঁচা মাটির প্রলেপ থাকায় যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভুক্তভোগী মানুষের অভিযোগ যত্রতত্র পুকুর খনন করার পর পুকুর থেকে মাটি আনা-নেয়ার সময় ট্রাক্টর থেকে কাঁচা মাটি পাকা সড়কের উপর পড়ে। বৃষ্টিতে ওই মাটি নরম হয়ে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি করছে।
 
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুর্গাপুর উপজেলা সদর হতে শিবপুর পর্যন্ত পাকা সড়কের পালি থেকে শিবপুর পর্যন্ত, জয়নগর ইউনিয়নের হরিরামপুর থেকে ব্রহ্মপুর পর্যন্ত, পৌর সদরের সিংগা থেকে নান্দোপাড়া পর্যন্ত, দুর্গাপুর থেকে আলীপুর পাকা সড়কের পাইকড়তলি মোড় থেকে বেলঘরিয়া পর্যন্ত পাকা সড়কে নরম মাটির প্রলেপ পড়েছে।
 
স্থানীয় ভুক্তভোগী মানুষের অভিযোগ যত্রতত্র পুকুর খনন করার ফলে পুকুর থেকে মাটি আনা-নেয়ার সময় ট্রাক্টর থেকে কাঁচা মাটি পাকা সড়কে পড়ে। বৃষ্টির পানিতে ওই মাটি নরম হয়ে সড়কে প্রলেপ পড়ায় যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। গত রবিবার রাতের বৃষ্টিতে আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে সড়কগুলো।
 
উপজেলার নওপাড়া মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক প্রদ্যুৎ কুমার সরকার বলেন, গতকাল সোমবার সকালে তার কলেজের ছাত্রীদের নিয়ে জেলা পর্যায়ে জাতীয় সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে মাইক্রোবাস যোগে রাজশাহী আসছিলেন। সিংগা থেকে নান্দোপাড়ার মাঝখানে ওই সড়কের কিছুদূর যেতেই পাকা সড়কের উপরে কাঁচা মাটির প্রলেপ থাকায় তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে নিচে নেমে যায়।
 
উপজেলা ভূমি অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন, সোমবার সকালে অফিসে যাবার সময় পাকা সড়কে নরম কাঁচা মাটির প্রলেপ থাকায় যান চলাচলের অনুপযোগী গয়ে পড়ে। এ কারণে শিবপুর দুর্গাপুর সড়কের বাঁশপুকুরিয়া থেকে পালী পর্যন্ত তার সঙ্গে অন্যান্য যাত্রীদেরও পায়ে হেঁটে আসতে হয়।
 
এ বিষয়ে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সমর কুমার পাল বলেন, কৃষি জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে যত্রতত্র পুকুর খনন করার কারণে এ ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এধরণের কার্যক্রম বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনদেরকেও সচেতন হতে হবে বলেও জানান তিনি।
 
ইত্তেফাক/এসএস