টাঙ্গাইলের সখীপুরে এক স্কুলছাত্রকে বলাৎকার করার অভিযোগে এক ভণ্ডপীরের বিচার ও গ্রেফতার দাবীতে মানববন্ধন এবং সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয়রা। আজ বুধবার দুপুরে উপজেলার সখীপুর-ইন্দারজানি সড়কের মহানন্দপুর বাজারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মহানন্দপুর বিজয় স্মৃতি উচ্চবিদ্যালয়, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড সংসদ, বাজার বণিক সমিতি, আদিবাসী ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন, ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আয়োজনে কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীরা অংশ নেয়।
বক্তারা দ্রুত ওই ভণ্ডপীরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, ভণ্ডপীর আবদুল খালেক (৫২) প্রায় দুই যুগ ধরে এলাকার সহজ সরল মানুষকে যাদু-টোনা দেখিয়ে তাবিজ-কবজ দেন। সুদের ব্যবসা করেন, নানা প্রতারণা করে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন। এছাড়াও যৌননির্যাতনসহ অসামাজিক কর্মকাণ্ডে রয়েছে তার সিদ্ধহস্ত। ওই সমাবেশে ভণ্ডপীরকে আইনের আওতায় আনার সাতদিনের আল্টিমেটামও দেন বক্তারা।
উল্লেখ্য, গত ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বলাৎকারের শিকার ওই শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে ভণ্ডপীর আবদুল খালেককে আসামি করে সখীপুর থানায় যৌন নির্যাতনের (বলাৎকার) অভিযোগে মামলা করেন। পুলিশ মামলাটি আমলে নিয়ে ওই কিশোরের শারীরিক পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পীর বলে খ্যাত আবদুল খালেকের বাড়ি উপজেলার বহেড়াতৈল গ্রামে। তিনি স্ত্রী ও ছেলের বউকে নিয়ে সখীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে পাঁচতলা বাড়ি করে কমপক্ষে পাঁচ বছর ধরে বসবাস করছেন।
সখীপুর থানা পুলিশ ও বলাৎকারের শিকার ওই স্কুলছাত্রের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নানার বাড়ি বেড়াতে আসা উপলক্ষে ওই কিশোরের সঙ্গে পীর আবদুল খালেকের সঙ্গে পরিচয় ঘটে। ওই সূত্র ধরে ঘটনার রাত সাড়ে নয়টার দিকে কিশোরকে জেএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন প্লাস পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে পীরের বাসায় নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে তার কক্ষের দরজা বন্ধ করে দিয়ে যৌন নির্যাতন (বলাৎকার) চালান। নির্যাতনের বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য শাসিয়ে আধা ঘণ্টা পর ওই পীর কিশোরকে নানার বাড়ি বাউল গানের অনুষ্ঠানে পৌঁছে দেন।
ওই কিশোরের মা বলেন, ঘটনার দুইদিন পর পায়ু পথে ব্যথার কারণে সে পায়খানা করতে না পারায় পরে সে পুরো ঘটনা আমাদের কাছে খুলে বলে। আমার ছেলেটি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে এবার অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। এদিকে মামলার খবর পেয়ে পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে ওই পীর বাসা থেকে গা ঢাকা দিয়েছে বলে জানা যায়। আবদুল খালেকের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক ভুঁইয়া বলেন, 'এ বিষয়ে থানায় মামলা নেওয়া হয়েছে। আবদুল খালেককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।'
ইত্তেফাক/এসএস
