মোহনগঞ্জে ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার টমেটো

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২৩:০৬

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে পাইকারী ও খুচরা বাজারে অস্বাভাবিকভাবে টমেটোর দাম কমে গেছে। ফলে কৃষকের ক্ষেতেই পঁচে বিনষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার টমেটো।

শীতকালীন সবজি হিসাবে টমেটো অন্যান্য স্থানের মত এই এলাকায়ও ব্যপক আবাদ হয়। তবে বসন্তকালে আবাদ বেশী হয়। গতবছরগুলোতে বেশী উৎপাদন ও ভাল দাম পাওয়ায় চলতি মৌসুমে আরও বেশী জমিতে টমেটো আবাদ করে কৃষকরা। ফলন ভালই হয়েছে। কিন্তু বাজারে মূল্য কম। তারওপর বুলবুলি, কাক, নেউলসহ অসখ্য পশু-পাখি টমেটো নষ্ট করছে। প্রতিরোধের ব্যবস্থা থাকলেও কোন কৃষক টমেটো ক্ষেতের পরিচর্যা কিংবা ফলন রক্ষা করছেন না।

আজ বুধবার বড়কাশিয়া বিরামপুর ইউনিয়নের বামের চর গ্রামের একটি টমেটো ক্ষেতে কৃষক মোঃ রমিজ উদ্দিনের (৬০) সাথে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে ৩ বিগা জমিতে হাইব্রিড জাত, হীরা, উদয়ন, উদয়ন প্লাস এই তিন জাতের টমোটো আবাদ করেছেন। খরচ হয়েছে লক্ষাধিক টাকা। গত ২০ দিন ধরে ২টাকা, ৩ টাকা, ৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে হাতে পেয়েছেন ২০ হাজার টাকা। পুজি উঠতে আরও ৮০ হাজার টাকা বাকী।

তিনি আরও বলেন অন্যান্য বছর এখান থেকে টমেটো অন্যত্র রপ্তানি হত। কিন্তু এবার রপ্তানি না হওয়ায় বাজার ধস নেমেছে। তিনি এই এলাকায় একটি সবজি সংরক্ষণাগার নির্মানের দাবী জানান।

কৃষক রমিজ উদ্দিনের মত বড়তলী বানিহারী ইউনিয়নের বড়তলী গ্রামের এক বিশাল সবজি মাঠে টমেটো আবাদ করে লোকশানের মুখে পড়েছেন ঐ গ্রামের কৃষক মোঃ আবুল কালাম। তিনি  জানান, বাজারে এখন টমেটো বিক্রি করতে হয় ২ টাকা কেজি। ফলে ক্ষেত থেকে উঠানো খরচ উঠে না। তারপর নিয়ে যেতে হয় বিক্রি করার জন্য বাজারে এর জন্য। অল্প পরিমান বিক্রি করেছিলেন আর বাকী টমেটো ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে। এই দুই কৃষকের মত অসংখ্য কৃষক এবার টমেটো আবাদ করে টাকা উঠাতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন অনেকে।

উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ দুলা মিঞা জানান, চলতি সনে উপজেলার পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়নে ১’শ ২৫ একর জমিতে টমেটো আবাদ হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম নাফিজ জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সকল চাষীরা একসাথে এক সময়ে টমেটো চাষ করায় উৎপাদন বেশী হয়েছে। ঢাকাসহ অন্যত্র রপ্তানি না হওয়ায় কৃষরা ন্যয্য মূল্য পাচ্ছেন না। তবে কৃষকদের  চাহিদা মোতাবেক এখানে একটি সবজি সংরক্ষণাগার প্রয়োজন। সংরক্ষণাগার থাকলে কৃষকদের উৎপাদিত বিপুল পরিমান সবজি পচন থেকে রক্ষা পেত এবং চাষীরা সবজি চাষে লাভবান হতো।

ইত্তেফাক/নূহু