দিন দিন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। মানুষ প্রতিনিয়তই ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের প্রতি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এর কারণেই ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের স্ক্রিনে অনেকেই দীর্ঘ সময় পার করছেন। ডিভাইসের স্ক্রিনে কত সময় পার করলে তা মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বর্তমানে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এতে করে ডিভাইসের স্ক্রিনে দীর্ঘ সময় চোখ রাখছেন, এমন লোকের সংখ্যাও বাড়ছে।
শিশু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, ডিজিটাল ডিভাইস ও সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যাপক ব্যবহার শিশু ও কিশোরদের ক্ষতি করে। প্রযুক্তির ব্যবহার মানেই ক্ষতিকর, এমন ধারণা ঠিক নয়। প্রযুক্তি মানুষের কীভাবে ক্ষতি করে, সে বিষয়টি নিরূপণ করা বেশ কঠিন। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে মানুষ বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পেয়ে থাকে এবং এর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব নেই।
অপরদিকে বেশকিছু গবেষণায় এর উল্টো ফল দেখা গেছে। সোশ্যাল মিডিয়া ও স্ক্রিনের ব্যবহার তরুণদের স্বাস্থ্যের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের আইনপ্রণেতারা এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। এতে তারা গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। কত সময় ধরে স্ক্রিন কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করলে তা ক্ষতিকর নয়, তা ব্যক্তির একান্তই বিবেচ্য বিষয়।
তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রযুক্তির অধিক ব্যবহার কিশোরদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক জিন টিওয়েঙ্গে বলেন, ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার সমস্যা সৃষ্টি করে। তাই তিনি শিশুদের কম সময় স্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, দিনে আধাঘণ্টা কিংবা এক ঘণ্টার জন্য কিশোররা ইলেকট্রনিকস ডিভাইস ব্যবহার করলে তা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়।
২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যের এক গবেষণায় বলা হয়, যেসব শিশুর টেলিভিশন ও ভিডিও গেমসের অভ্যাস রয়েছে, তারা নানা ধরনের সমস্যায় ভোগেন। বলা হয়, বেশির ভাগ মানুষ মনে করেন, অতিরিক্ত চিনি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। তবে এর প্রভাব বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষেত্রেও এটি একই ধরনের হতে পারে। এখন পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট তথ্য মেলেনি। ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে এ বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। সূত্র :বিবিসি
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ
