বগুড়ার শিবগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যান এসএম রূপমের রামদার কোপে নারী ইউপি সদস্য শাহানাজ বেগম (৪০) আহত হয়েছেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের মহাবালা মীরাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রামদার কোপে ওই নারীর বাম হাতের আঙ্গুল কেটে গেছে। সেখানে তিনটি সেলাই দিতে হয়েছে।
শাহানাজ ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের ৭, ৮, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য এবং প্রবীণ আওয়ামী লীগনেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম হাতেম আলীর মেয়ে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শাহানাজ বেগম জানান, ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম রূপম ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের টাকা আত্মসাত করার অভিযোগে তিনজন শ্রমিক আজাদুল আকন্দ, কল্পনা বেগম এবং নাসিমা বেগম ২৬ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। বিষয়টি জানতে পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান এসএম রূপম বুধবার রাতে তার বাহিনী নিয়ে ওই শ্রমিকদের বাড়িতে গিয়ে অভিযোগ তুলে নেয়ার জন্য তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
শাহানাজ আরও জানান, এর জের ধরে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় চেয়ারম্যান রূপম, ইউপি সদস্য নান্নু মিয়াসহ তার ৫-৭জনের বাহিনী নিয়ে আজাদুলে বাড়িতে গিয়ে তাকে জোরপূর্বক উঠিয়ে আনার চেষ্টা করলে নারী সদস্য শাহানাজ বিয়ষটি জানতে পেরে সেখানে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। তখন ইউপি চেয়ারম্যান তাকে রামদা দিয়ে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে তিনি বাম হাত দিয়ে বাধা দেবার চেষ্টা করেন। এতে তার হাতের আঙ্গুল কেটে যায়। এছাড়াও হকিস্টিক দিয়ে তাকে বেদম মারপিট করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে দেন।
এ বিষয়ে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান এসএম রূপমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি বগুড়া শহরে বাস করি। ঘটনাস্থলে আমি যায়নি। তাকে মারপিটের কোনো ঘটনাই আমি জানি না। পরে শুনেছি তিনি আমার এলাকায় এসে আমার ছেলেদের মারপিট করেছে। এখন উল্টো আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। ”
শিবগঞ্জ থানার ওসি শাহিদ মাহমুদ খান বলেন, বিষয়টি জানার পরে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলমগীর কবীর বলেন, এবিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
