প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব অপরিসীম। বিচারক হিসাবে আমাদের প্রধান দায়িত্ব ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য দৈহিক ও আত্মিকভাবে সবটুকু মনোযোগ ঢেলে দিয়ে বিচার কাজ সম্পন্ন করা। তিনি বলেন, এই সংবর্ধনা তখনই স্বার্থক হবে যখন জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যগণ মামলা নিষ্পত্তিতে তাদের সর্বোচ্চ শ্রম ও মেধার প্রয়োগ ঘটাবেন। অধস্তন আদালতের বিচারকদের সংগঠন বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস এসোসিয়েশনের দেয়া এক সংবর্ধনার জবাবে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আইন মন্ত্রণালয় ও সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান হবে সহযোগী হিসাবে। ক্ষমতার দ্বন্দ্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক কোন প্রতিষ্ঠান হিসাবে নয়। মনে রাখতে হবে আদালত হচ্ছে জনগণের অধিকার আদায়ের শেষ আশ্রয়স্থল। তাই জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য আমাদের একসঙ্গে কাজ করে যেতে হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর একটি রেষ্টুরেন্টে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিচারকদের উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি অবহিত হয়েছি যে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চীফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণ সার্বক্ষনিক গাড়ি ব্যবহারের সুবিধা পেয়ে থাকেন। অতিরিক্ত জেলা জজগণ এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অতিরিক্ত জেলা জজদের সার্বক্ষনিক গাড়ির সুবিধা এবং অতিরিক্ত জেলা জজ হতে জেলা জজ পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের গাড়ির সেবা প্রদানের দাবি বিবেচনার জন্য আইনমন্ত্রীর মাধ্যমে সরকারের নিকট অনুরোধ রাখছি।
তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে একজন বিচারক সবসময় বিচারক থাকেন। তাই এজলাসের বাইরের সময়টুকু বিচারকের আচরণ এমন হতে পারবে না যাতে মানুষ আস্থা হারায়। মনে রাখতে হবে প্রত্যেকেই যদি তার দায়িত্বটুকু সঠিকভাবে পালন করে কেবলমাত্র তখনই বড় অর্জন সম্ভব। প্রধান বিচারপতি বলেন, দেশ-বিদেশে উচ্চ শিক্ষা ও মাতৃত্বকালীন ছুটি ও প্রেষণে পদায়নের কারনে অধস্তন কোন আদালতের কার্যক্রম বিচারক শূণ্যতার কারনে যেন স্থবির না হয়ে যায়। বিচারপ্রার্থী জনগন যেন ভোগান্তিতে না পড়ে সেটা নিশ্চিত করতে অধস্তন আদালতের মোট আনুপাতিক পদের দশ ভাগ রিজার্ভ পদ সৃজনে আইনমন্ত্রী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করলে বিচার বিভাগ আরো বেগবান হবে বলে মনে করি।
আইনমন্ত্রী বলেন, আইন মন্ত্রণালয় বিচারিক প্রতিষ্ঠানসূমহের প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় হিসাবে বিচার বিভাগের সার্বিক কল্যাণে কাজ করে থাকে। আমাদের সংবিধানের আলোকে অধস্তন আদালতসূমহের বিচারকদের শৃঙ্খলা, পদোন্নতিসহ সার্বিক ব্যবস্থা পরিচালিত হবে। প্রধান বিচারপতি প্রশাসনে যে ধরনের গঠনমূলক ও গণমূখী পরিবর্তন আনতে চান সরকার তাতে সব ধরনের সহায়তা দেবে।
অনুষ্ঠানে আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক, জুডিশিয়াল সার্ভিস এসোসিয়েশনের সভাপতি ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এসএম কুদ্দুস জামান, মহাসচিব ও আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহা, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা বক্তব্য রাখেন। এ সময় প্রধান বিচারপতির সহধর্মিনী সামিনা খালেকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারকরা উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধান বিচারপতিকে সংগঠনের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়।
ইত্তেফাক/নূহু
