কোন দেশে পিতৃতন্ত্র শক্তিশালী হলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়। আর গণতন্ত্র শক্তিশালী হলে পিতৃতন্ত্র দুর্বল হয় বলে মন্তব্য করেছেন সফররত উত্তর আয়ারল্যান্ডের শান্তিতে নোবেল বিজয়ী নারী মেরেইড ম্যাগুয়ার। তিনি নারীর ওপর সহিংসতার জন্য পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থাকে দায়ী করে বলেন, ‘পুরুষতান্ত্রিকতার জন্য বিশ্বে নারীর প্রতি বৈষম্য ও নির্যাতন ঘটছে। যৌনতা-আকাঙ্ক্ষা নয়, ধর্ষণের মূলে রয়েছে ক্ষমতা, এটি ক্রাইম অব পাওয়ার। নারীর চুল থেকে পা পর্যন্ত পুরুষের নিয়ন্ত্রণে।’
অন্যদিকে আরেক নারী নোবেল বিজয়ী ইরানের শিরিন এবাদি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, ধর্মগ্রন্থ বিশেষজ্ঞ নারীর সংখ্যা বলতে গেলে নাই। তাই পুরুষরা তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে ধর্মের ব্যাখ্যা দেয়। নারীরা যদি ধর্মগ্রন্থ বিশ্লেষক হতেন তবে তারা নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে ধর্মের ব্যাখ্যা দিতেন। তাই তিনি নারীদের ধর্মগ্রন্থ বিশেষজ্ঞ হওয়ার আহবান জানান।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা ক্লাবে বাংলাদেশের নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা একথা বলেন। ‘নারীর ওপর সহিংসতা রোধ ও নারী উন্নয়ন’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে নারী পক্ষ ও নোবেল উইমেন ইনিসিয়েটিভ কানাডা। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন নারী পক্ষের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শিরীন পারভিন হক।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবারে শিরিন এবাদি বলেন, ইরানে গণমাধ্যমের আধিক্য থাকলেও তা সরকার নিয়ন্ত্রিত। রোহিঙ্গাদের নিয়ে কোন সংবাদ তারা প্রকাশ করেনি। তিনি বলেন, বিশ্বের সব দেশেই লৈঙ্গিক অসমতা রয়েছে। কোন দেশেই নারী ও পুরুষ সমান অধিকার ভোগ করে না। আমার দেশ ইরানেও যেমন নারীরা বৈষম্যের শিকার ঠিক তেমন ভাবে বাংলাদেশের নারীরাও বৈষম্যের শিকার। ১৯৭৯ সালে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পরে খুব বেশি গণমাধ্যম তার এই অর্জনের সংবাদ প্রকাশ করেনি।
ম্যারেইড ম্যাগুয়ার বলেন, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্ব নারীর অধিকার নিশ্চিত করা, খর্ব করা নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই নারীর প্রতি সহিংসতা চলমান। বিশ্বের সব দেশের নারীরা তাদের অধিকার পাওয়ার জন্য আন্দোলন করছে। রোহিঙ্গা নারীদের উপর যে নির্যাতন হয়েছে সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা মিয়ানমার মিলিটারি দ্বারা গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। ৯০ শতাংশ রোহিঙ্গা নারী ধর্ষণের শিকার। তাদের মুখ থেকে সেসব নারকীয় নৃশংসতার কথা শুনে আমরা চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। অং সান সুচিও একজন নারী, সে কিভাবে এসব শুনেও চুপ রয়েছেন। এসব প্রশ্নের উত্তর তাকে দিতেই হবে’।
রোহিঙ্গারা আদৌ নিজ দেশে ফিরতে পারবে কি-না সে প্রশ্নের জবাবে ম্যারেইড ম্যাগুয়ার বলেন, ‘আমরা সত্যিই একটি শন্তিপূর্ণ সমাধান চাই। বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য যা করেছে তা সত্যিই বিরল। আমরা ইতোমধ্যেই মিয়ানমারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা অং সান সূচিকে যথাসাধ্য বোঝানোর চেষ্টা করব যাতে সে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেন। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতে অং সান সূচিকে দাঁড় করাবো।’
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ
