টংকাবতী চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার মাটি ও মানুষের উন্নয়ন এবং জীবন-জীবিকার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি খালের নাম। পার্বত্য চট্টগ্রামের লামা থেকে উৎপত্তি এ খাল লোহাগাড়ার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শঙ্খ হয়ে খরস্রোতা নদী কর্ণফুলীতে মিশেছে।
জানা গেছে, এক সময় সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার সীমানা নির্ধারণকারী এবং এ দু'উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অপরূপ সৌন্দর্যে বিভক্তকারী এ খাল দিয়ে বান্দরবানের পাহাড়ি অঞ্চলের গাছ-বাঁশ ও মালামাল এবং বাঁশের ভেলায় পণ্যবোঝাই হয়ে বিভিন্নস্থানে যেত। খাল থেকে মৎস্য আহরণ করে শত শত জেলে পরিবার জীবিকা নির্বাহ করত। এটি এখন আর নেই। ভরা বর্ষা মৌসুমে খালে কিছু পানি দেখা গেলেও শুষ্ক মৌসুমে শুকিয়ে যায়। ফলে শুষ্ক মৌসুমে খালে বোরো চাষ হয় আর খাল পাড়ে হয় অন্যান্য ফসলের চাষ।
সরেজমিনে উপজেলার কলাউজান সীমানার টংকাবতী খালে গিয়ে দেখা গেছে, খালের মধ্যে এলাকার কৃষকরা বোরো চাষ করেছে। আর খালের বুকের উপরের অংশে-পাড়ে বিভিন্ন শাক-সবজির চাষ হয়েছে। এলাকার কৃষকরা জানান, শুষ্ক মৌসুমে খালটি শুকিয়ে যায়। বর্তমানে খালের পানি দিয়ে তেমন কোন চাষাবাদ হয় না। শুধু খালের বুকে থাকা সামান্য পানিতে কিছু কৃষক প্রতিবছর বোরো চাষ করে থাকে। গত ৪৬ বছরে খালটির তেমন কোন সংস্কার হয়নি এলাকার চাষিরা জানান। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারে লোহাগাড়ায় বোরো চাষ হয়েছে ৩ হাজার ৬৫০ হেক্টর। আর সবচেয়ে বেশি বোরো চাষ হয়েছে চুনতি ইউনিয়নে।
IMG0
উপজেলা কৃষি অফিসার শামীম হোসেন জানান, টংকাবতী লোহাগাড়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ খাল। বর্তমানে খালটির দু‘পাশ দখল ও ভরাট হয়ে গেছে। কৃষক ও এলাকাবাসীর উপকারের জন্য খালটি পুনরুদ্ধার ও সংস্কার প্রয়োজন। খালটি সংস্কার হলে পানির ধারণ ক্ষমতা বাড়বে এবং লাভবান হবে কৃষকরা। আর শুষ্ক মৌসুমে বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদের সুযোগ সৃষ্টি হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুব আলম জানান, টংকাবতী উপজেলার কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাল। ধীরে ধীরে খালটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এলাকার কৃষির উন্নয়নের স্বার্থে খালটি সংস্কারের উদ্যোগ নেবেন বলে তিনি জানান।
ইত্তেফাক/এসএস
