ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, দুর্নীতির দায়ে খালেদা জিয়া এখন জেলে। টকশোতে অনেকে তার জন্য মায়াকান্না করছেন, তারা বলছেন- আহারে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী মাত্র দুই কোটি টাকার মামলায় জেলে! তারা তাকে রাজনৈতিক শহীদ বানানোর চেষ্টা করছেন। মাত্র ১৯ লাখ টাকার মামলায় ভারতের লালুপ্রসাদের পাঁচ বছরের জেল হয়েছে, পাকিস্তানের নওয়াজ শরীফ শুধু প্রধানমন্ত্রীত্বই হারাননি, দলের পদও হারিয়েছেন। বলা হচ্ছে- জিয়া পরিবারকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র হচ্ছে। জিয়া পরিবারের ঐতিহ্য কি? জিয়া পরিবারের ঐতিহ্য হচ্ছে হত্যা, দুর্নীতি ও যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসন।
২১ দফা দাবিতে শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ওয়ার্কার্স পার্টির সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মেনন বলেন, সামনে কঠিন সময়। এ বছরেই নির্বাচন। এই নির্বাচনে কি হবে? অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও উন্নয়নের যে ধারায় আমরা ফিরে এসেছি সেটিকে টিকিয়ে রাখবো না-কি বিএনপি-জামায়াত জোট চক্রের দুর্বৃত্তায়ন, লুটপাট, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের হাতে দেশকে তুলে দিয়ে অন্ধকারে হারিয়ে যাব, দেশবাসীকে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিএনপি বলছে- তাদের দাবি মানা না হলে তারা নির্বাচনে যাবে না। আমরা স্পষ্ট বলে দিতে চাই- অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে দেশের সংবিধান মোতাবেক। বিএনপি বলছে খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে তারা নির্বাচনে যাবে না, এই ধমকে কাজ হবে না। বাংলাদেশের মানুষ দুর্নীতিবাজদের আর ক্ষমতায় আনবে না।
তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে এই সরকার বিএনপি-জামায়াতের কলিজায় হাত দিয়েছে, কাজেই তারা ষড়যন্ত্র করবে। সেই ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ঐক্য অটুট রাখা জরুরি।
ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি বলেন, সামরিক শাসক ও বেইমান জিয়াউর রহমান এদেশে দুর্নীতিকে প্রতিষ্ঠা করেছেন, আরেক স্বৈরশাসক এরশাদ দুর্নীতিকে শিল্পে রূপ দিয়েছেন। বিশ্বাসঘাতক জিয়ার স্ত্রী খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছেন। আজ নতুন করে বিতর্ক করা হচ্ছে উন্নয়ন না গণতন্ত্র। গণতন্ত্র ছাড়া উন্নয়ন হয় না। উন্নয়ন ও গণতন্ত্র পরস্পরবিরোধী কিছু নয়। দেশের উন্নয়ন হয়েছে সন্দেহ নেই, তবে ধনবৈষম্য বেড়েছে। দেশের ৯১ ভাগ মানুষের কাছে সেই উন্নয়ন পৌঁছেনি। তিন কোটি মানুষকে দরিদ্র রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- ফজলে হোসেন বাদশা, বিমল বিশ্বাস, আনিসুর রহমান মল্লিক, নুরুল হাসান, মাহমুদুল হাসান মানিক, অধ্যাপক ড. সুশান্ত দাস, ইকবাল কবির জাহিদ, হাজেরা সুলতানা ও কামরুল আহসান প্রমুখ।
ইত্তেফাক/ইউবি
