বড়লেখায় অধ্যক্ষের কক্ষে ছাত্রলীগের হামলা-ভাংচুরের অভিযোগ

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৮, ২২:৪১

মৌলভীবাজারের বড়লেখা ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষের কক্ষে হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।  ডিগ্রি (পাস) ১ম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার ফরম না দেওয়ার জের ধরে ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী এই হামলা করেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।  টাকা জমা না দিয়ে (রশিদ ছাড়া) তারা ফরম কমিটির কাছ থেকে ফরম নিতে চেয়েছিল।  শনিবার (৩ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।  এই ঘটনার পর ভয়ে ফরম পূরণ না করেই অনেক শিক্ষার্থী চলে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে বড়লেখা ডিগ্রি কলেজে ডিগ্রি (পাস) ১ম বর্ষের (২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ) ফাইনাল পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ কার্যক্রম শুরু হয়।  কলেজের নিয়ম অনুয়ায়ী ফরম নেওয়ার আগে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হয়।

শনিবার (০৩ মার্চ) কলেজে ফরম পূরণ কার্যক্রম চলছিল।  দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টাকা জমা না দিয়ে ফরম কমিটির কাছে ফাইনাল পরীক্ষার্থীদের ফরম নিতে চান ছাত্রলীগ নেতা কামরুল ইসলাম।  যদিও তিনি ডিগ্রি (পাস) ফাইনাল পরীক্ষার্থী নন।  তিনি এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী বলে জানা গেছে।  তখন রশিদ ছাড়া ফরম দেওয়া যাবে না বলে তাকে জানিয়ে দেন ফরম কমিটির শিক্ষকরা।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, এতে কামরুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে অধ্যক্ষের কক্ষে হামলা চালায়।  এসময় তার সঙ্গে এসে যোগ দেন কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রব, কর্মী শাকিব, মুন্না ও আরিফ।  তারা অধ্যক্ষের কক্ষের কয়েকটি চেয়ার ও স্পিকার ভাংচুর করে।  তাদের বাধা দিতে এসে কয়েকজন শিক্ষকও লাঞ্ছিত হন।  এই ঘটনার খবর পেয়ে বড়লেখা থানা পুলিশ, কলেজ গভর্নিং বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগ নেতা কামরুল ইসলাম বলেন, ‘চাচাতো ভাইয়ের ফরম সংগ্রহের জন্য অধ্যক্ষের কার্যালয়ে গিয়েছিলাম।  এ সময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে একজন স্যার আমার গায়ে হাত তুলেন।  তখন কিছু শিক্ষার্থী উত্তেজিত হয়ে হামলা ও ভাংচুর করেছে।  এর সাথে আমার ব্যক্তিগত কোন সম্পৃক্ততা নেই।’

এ বিষয়ে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান হোসেন শনিবার বলেন, ‘ডিগ্রি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন চলছে।  অনেকের বেতন আটকানো।  বেতন মুওকুফ নিয়ে সাধারণ ছাত্ররা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।  এর সাথে ছাত্রলীগের কোনো সম্পর্ক নেই।  এদের মধ্যে কেউ কেউ ছাত্রলীগ করে।  তবে এটা সাংগঠনিক কোনোকিছু না।  আর সাধারণ সম্পাদক (আব্দুর রব) পরে এসেছে।  সে ধরাধরি করেছে।  হামলার সাথে জড়িত না।’  

বড়লেখা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ অরুন চক্রবর্তী শনিবার বলেন, ‘কিছুটা ভাংচুর হয়েছে।  তবে এ সময় আমি কক্ষে ছিলাম না।  কারা করেছে আমি দেখিনি।  ঘটনার পর গভির্নিং বডির সভা হয়েছে।  আপাতত নিয়মতান্ত্রিকভাবে ফরম পূরণ কার্যক্রম চলবে।  সভাপতি মহোদয় আসলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ সহিদুর রহমান শনিবার বিকেলে বলেন, ‘ছাত্রদের পরীক্ষার ফরম ফিলাপের টাকা নিয়ে কিছু পোলাপান ভাংচুর করেছে।’

ইত্তেফাক/নূহু