রাউজানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে স্থাপন করা অধিকাংশ ইন্টিগ্রেট সোলার স্ট্রিট লাইট রাতের গভীরতার সাথে পাল্লা দিয়ে নিভে যায়। অনেকগুলো লাইট জ্বলেও না। তিন বছরের ওয়ারেন্টি থাকলেও সরবরাহকারী ও সংস্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের দায়সারা মনোভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে থাকা এইসব লাইট ঠিক হয় নি।
জানা যায়, নানা অপরাধ ও নাশকতা এড়াতে এবং মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে রাউজানের প্রতিটি সড়কে সড়কবাতি স্থাপনের উদ্যোগ নেন স্থানীয় সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। তার ব্যক্তিগত অনুদান ও বিভিন্ন ব্যক্তির অনুদানে তিন বছর আগে সড়ক বাতি সংস্থাপনের কাজ শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ অবকাটামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচীর আওতায় বিগত ছয়মাস পূর্বে (২০১৬-১৭ অর্থ বছর) উপজেলার চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক, চট্টগ্রাম- রাঙ্গামাটি সড়ক, হাফেজ বজলুর রহমান সড়ক, শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বেবী সডক, নোয়াপাড়া সেকশন সড়ক সহ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণস্থানে স্থাপিত করা হয়েছিল ২৬৪ টি ইন্টিগ্রেট সোলার স্ট্রীট লাইট।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ইডকলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রিমসো ফাউন্ডেশন এই লাইটগুলো সরবরাহ ও স্থাপন করেন। প্রতিটি লাইটের বিপরীতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদকে গুণতে হয়েছিল ছাপ্পান্ন হাজার চার’শ নব্বই (৫৬৪৯০)টাকা। কিন্তু স্থাপনের কয়েক মাসের কিছু লাইট বিকল হয়ে পড়ে।
গত ২ মার্চ রাত ১০টার দিকে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে পরিদর্শনে দেখা যায়, সড়কের পাশে স্থাপন করা সোলার স্ট্রিট লাইটগুলোর মধ্যে পাহাড়তলী চৌহমুনি বাজারে তিনটি, গশ্চি নয়াহটে একটি, দক্ষিণ রাউজানের বাণিজ্যিক কেন্দ্র পথেরহাট মোড়ে দুটি লাইট জ্বলছে না।
পথেরহাটের দোকানদারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সড়ক লাইটগুলো লাগানোর মাসখানেক পর নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘ কয়েকমাস এভাবে নষ্ট হলেও ঠিক করা হচ্ছে না। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, কিছু স্থানে এসব লাইট রাতের গভীরতা বাড়ার সাথে সাথে নিভে যায়। হ্রাস পেয়েছে আলোর পরিমানও। এতে করে রাতের অন্ধকারে সর্বসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এছাড়াও অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বাড়ছে গরু চুরি, মোটর গাড়ি চুরিসহ নানা ধরণের অপরাধ।
পাহড়তলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিন দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, আমার ইউনিয়নে ১৬টি মত সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি একদম জ্বলে না, আর কয়েকটি রাত ১০-১১ টার পর নিভে যায়। এই সব লাইটের তিন বছরের ওয়ারেন্টি থাকলেও দায়িত্বপ্রতিষ্ঠান দায়সারা ।
এই বিষয়ে সংস্থাপন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রিমসো ফাউন্ডেশনের রাউজান এরিয়ার প্রকল্প তত্ত্বাবধায়ন ব্যবস্থাপক আশীষ কুমার মন্ডল দৈনিক ইত্তেফাককে জানান, লাইটের সোলার প্লেটের ওপর ধুলোবালির আস্তরণ পড়লে তাপ সংগ্রহ করতে না পারলে লাইট জ্বলে না। এছাড়া শীতকালে কম তাপের কারণে লাইটগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এসব লাইট মেরামতের কাজ শুরু করেছেন বলে জানান তিনি।
এই লাইটগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায় স্বীকার করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নেওয়াজ মোরশেদ দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, ছায়া পড়া স্থানে স্থাপন ও ধুলোবালির আস্তরণ পড়ার কারণে কয়েকটি স্থানে লাইট বন্ধ থাকার খবর পেয়েছি। আগামী একসপ্তাহের মধ্যে এসব লাইট জ্বলে উঠবে। স্থানীয় জনপ্রতিধি ও সচেতন ব্যক্তিরা চাইলে এসব ঠিক করে নিতে পারেন।
ইত্তেফাক/নূহু
