তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গতকাল রবিবার ঢাকায় এসে পৌঁছান ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ত্রান দাই কুয়াং। ভিয়েতনামের নেতা এবং তার পত্নী নগুয়েন থাই হিয়েন হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছলে ২১ বার তোপধ্বনির মধ্যদিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, তার পত্নী রাশিদা খানম ও কয়েকজন সিনিয়র মন্ত্রী তাদের স্বাগত জানান। তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাদের বহনকারী এয়ার ক্রাফটটি বিকেল ৩টা ৫২ মিনিটে বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ এয়ার ক্রাফট থেকে প্রেসিডেন্ট কুয়াং, তার পত্নী ও সফরসঙ্গীরা নেমে আসার পর দুইটি শিশু তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানায়।
বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টকে একটি অস্থায়ীভাবে নির্মিত ডায়াসের দিকে নিয়ে যান। এ সময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি যৌথ কন্টিনজেন্ট তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে দু’দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। কর্মকর্তারা জানান, অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান শেষে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের উদ্দেশে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। সফরকালে কুয়াং এ হোটেলেই থাকবেন।
ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানানোর সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সঙ্গে ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ, কূটনীতিক মিশনের প্রধানগণ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), পররাষ্ট্র সচিব, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সচিবগণ এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আমন্ত্রণে অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশে সফরে এসেছেন।
২০০৪ সালে তত্কালীন প্রেসিডেন্ট ত্রাণ দাক লুয়ংয়ের সফরের পর এটি গত ১৪ বছরে কোনো ভিয়েতনামি প্রেসিডেন্টের এটাই প্রথম বাংলাদেশ সফর। গতকাল সন্ধ্যায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করেন। আজ সোমবার সকাল ৮টার দিকে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিনি সকাল সাড়ে ৯টায় ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করবেন। সকাল ১০টায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। বৈঠকে চার থেকে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।
দুপুরের পর তিনি জাতীয় সংসদ কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন। সেখানে স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী তার সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন। এছাড়া হোটেল সোনারগাঁওয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম পৃথকভাবে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করবেন।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানে তার সম্মানে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
ইত্তেফাক/আনিসুর
