গৌরনদীতে খাদেম হত্যা মামলায় একজনের ফাঁসি, যাবজ্জীবন দুই

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৮, ২০:২৪
গৌরনদী উপজেলার আলোচিত খাদেম সরদার হত্যা মামলায় একজনের ফাঁসি এবং অপর দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুর ১২টায় বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন এই দণ্ডাদেশ  প্রদান করেন।
 
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন- গৌরনদী উপজেলার নন্দনপট্টি গ্রামের মৃত শফিজউদ্দিন মৃধার ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য নান্নু মৃধা (৪০)। যাবজ্জীবন দণ্ডাপ্রাপ্তরা হলেন- নান্নুর ভাই মাদক সম্রাট সেন্টু মৃধা (৩৫) ও ধানডোবা গ্রামের ফানুস মৃধার ছেলে আলাম মৃধা (৩৭)।
 
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. গিয়াস উদ্দিন কাবুল তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার বাকী সাত আসামিকে খালাস প্রদান করা হয়েছে।
 
মামলা সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্তরা এলাকায় মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। স্থানীয় সরদার বাড়ির কাছে আল আকসা জামে মসজিদ কমিটির সদস্যরা তাদের মাদক ব্যবসা বন্ধ করার জন্য বাধা প্রদান করেন এবং পরবর্তীতে আইনের আশ্রয় নেয়ার হুমকি দেন। এর কিছুদিন পর দণ্ডপ্রাপ্তদের বাড়িতে পুলিশ মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এতে মসজিদ কমিটির সদস্যদের ওপর ক্ষিপ্ত হয় তারা।
 
এছাড়া মামলার বাদী পক্ষের সাথে জমিজমা নিয়ে বিরোধও রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন ২০১৪ সালের ১৩ অক্টোবর রাত সোয়া আটটার দিকে সরদার বাড়ি কাছে খালপাড়ে মামলার বাদী নন্দনপট্টি গ্রামের বাসিন্দা ও আল আকসা জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহআলম সরদার, তার বাবা ওই মসজিদ কমিটির সহসভাপতি খাদেম সরদার ও ভাই আসলাম সরদারের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে দণ্ডপ্রাপ্তরা হামলা চালান।
 
হামলায় শাহআলম প্রাণে রক্ষা পেলেও ঘটনাস্থলেই তার বাবা খাদেম সরদার নিহত এবং আসলাম সরদার গুরুতর আহত হয়ে পরবর্তীতে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।
 
এ ঘটনায় শাহআলম সরদার বাদী হয়ে ১০জনকে আসামি করে গৌরনদী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সিআইডি বরিশাল জোনের পরিদর্শক মো. সেলিম শাহনেওয়াজ দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৬ জুন আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত ১১জনের সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে বুধবার দুপুরে রায় ঘোষণার সময় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত নান্নু মৃধা এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আলাম মৃধা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি মাদক সম্রাট সেন্টু মৃধা পলাতক রয়েছেন।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি