সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঠেকাতে শ্রীলঙ্কায় স্যোসাল মিডিয়া বন্ধ

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০১৮, ২১:৩০
সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ ও সংখ্যালঘু মুসলমানদের সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঠেকাতে জরুরি অবস্থা জারির পর এবার ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বন্ধ করে দিয়েছে শ্রীলঙ্কার সরকার। সরকারের এক ঘোষণায় তিন দিন সারাদেশে ফেইসবুক, ভাইবার ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়।
 
এর আগে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মঙ্গলবার দেশব্যাপী জরুরি অবস্থা জারি করে শ্রীলঙ্কা সরকার। সহিংসতার ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকার ১০ দিনের জন্য এই জরুরি অবস্থা জারি করেছে।  
 
বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একজন নিহত ও মুসলিমদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনায় কেন্দ্রীয় শহর ক্যান্ডিতে সোমবার স্থানীয় কারফিউ জারি করা হয়। পুলিশ জানায়, সোমবার ক্যান্ডি জেলায় সপ্তাহব্যাপী দাঙ্গা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সেখান থেকে দক্ষিণ এশিয়ার এই দ্বীপ রাষ্ট্রজুড়ে সহিংসতা ছড়াচ্ছে। 
 
জরুরি অবস্থা জারি করা হলেও ক্যান্ডিতে রাতভর মুসলমানদের কয়েকটি মসজিদ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা হয় বলে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে। পুলিশের মুখপাত্র রুয়ান গুনাসেকারা বলেছেন, মঙ্গলবার রাতভর ক্যান্ডি এলাকায় বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ সাতজনকে আটক করেছে। এ সময় পুলিশের তিন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। তবে কতজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছে তা জানা যায়নি।
 
এসব সহিংস ঘটনার কয়েকটির জন্য সোশাল মিডিয়াকে দায়ী করে সরকারের পক্ষ বলা হয়েছে, ফেইসবুকে মুসলিমদের ওপর আরও হামলার হুমকি সম্বলিত পোস্টের মাধ্যমে সহিংসতাকে উস্কে দেওয়া হয়েছে।
 
অতীতেও শ্রীলঙ্কার জাতিগত দাঙ্গা মারাত্মকরূপ ধারণ করেছে। দেশটিতে মোট দুই কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার ১০ শতাংশ মুসলিম। যেখানে ৭৫ শতাংশ বৌদ্ধ ও ১৩ শতাংশ হিন্দু জনগোষ্ঠী রয়েছে। অনেক পর্যবেক্ষক বদু বেলা সেনা (বিবিএস) নামে বৌদ্ধদের একটি কট্টরপন্থি বৌদ্ধ গ্রুপকে এই দাঙ্গার জন্য দায়ী করেছন। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে দেশটিতে একই ধরনের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ৫ জন নিহত হন। এছাড়া অনেক দোকানপাট ও মসজিদ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। 
 
ইত্তেফাক/কেআই