নির্মাণ সামগ্রী রাখা ফুটপাতে ব্যস্ত সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৮, ০০:০৮

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা মহাখালী। মহাখালী ফ্লাইওভার এলাকায় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের উন্নয়ন কাজের সামগ্রী ফুটপাতে রাখায় সেখানে হাঁটার জায়গা নেই। আর রাস্তায় উন্নয়ন কাজ চলায় পাশ দিয়েও চলাচলের জায়গা নেই। বাধ্য হয়ে ব্যস্ত সড়কের মধ্যখান দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে হাঁটছে পথচারীরা।

পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ফুটপাতে সাধারণ মানুষের হেঁটে চলাচলের জায়গার কথা মাথায় রেখেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উন্নয়ন কাজ করা উচিত। রাতের বেলা কাজ করা যেতে পারে। তাহলে দিনের বেলা পথচারীরা স্বাচ্ছন্দে চলাফেরা করতে পারবেন। ভবিষ্যতে এসব বিষয় মাথায় রেখে যেন উন্নয়ন কাজ করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাজধানীর এই এলাকায় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের একটি প্রকল্পের কাজ চলছে। লাল সুতায় লেখা রয়েছে ডিটিসিএ এর জরুরি কাজ চলছে। মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচে রাস্তার এক পাশে গর্ত করছে শ্রমিকরা। ফুটপাতে রাখা হয়েছে নির্মাণ সামগ্রী। একপাশে রাখা হয়েছে খনন করা মাটি। এমনিতেই মহাখালী উড়াল সড়কের নিচের সড়কটিও সরু হয়ে গেছে। ফলে পথচারী ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

জানা গেছে, প্রতিদিন মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে উত্তরবঙ্গ, ময়মনসিংহ ও সিলেটগামী দূরপাল্লার শত শত বাস চলাচল করে। ফলে সবসময় ব্যস্ত থাকে এই সড়কটি। রাজধানীর অভ্যন্তরীণ রুটের অনেক যানও চলাচল করে এখান দিয়ে। ব্যস্ত সড়কে খনন কাজ চলায় বাসে উঠার মতও জায়গা নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা মুমিন খান বলছেন, প্রায় মাস খানেক ধরে এলাকায় এই উন্নয়ন কাজ চলছে। ফুটপাত দখল করে রাখায় মানুষ হাঁটার জায়গা পাচ্ছে না। এলাকার মানুষ খুব দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। খুব দ্রুত কাজ শেষ হলে লোকজন স্বস্তি পাবে। ব্যস্ত সড়কে ছুটে চলা মেহেদী হাসান রাজুর সাথে কথা হয়। সরকারি তিতুমীর কলেজের ৪র্থ বর্ষের এই ছাত্র এ প্রতিবেদককে জানান, এই সড়কটি সবসময় ব্যস্ত থাকে। এই ব্যস্ত সড়কেই খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলছে। ফুটপাত পথচারীদের হাঁটার জায়গা না রেখে এমন কাজ করা ঠিক হয়নি। ঝুঁকি নিয়ে রাস্তার মধ্যখান দিয়েই চলাফেরা করছি। বাসগুলো দ্রুত গতিতে চলার কারণে যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা তার।

জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরশেনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. নাছির ইত্তেফাক’কে বলেন, এটা সিটি করপোরেশনের অধীনের একটি প্রকল্পের কাজ। জনগণের ভোগান্তির কথা ভেবে আমি নিজেও ঠিকাদারকে কাজ দ্রুত শেষ করতে বলেছি। এ ব্যাপারে জানতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (অঞ্চল-৩) খন্দকার মাহাবুব আলম বলেন, এটা ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের কাজ। এটা তারাই ভালো বলতে পারবে।

ইত্তেফাক/নূহু