ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশের মধ্যে শুরু হওয়া চট্টগ্রাম টেস্ট শেষ পর্যন্ত ‘স্পিন যুদ্ধেই’ পরিণত হয়েছিলো। টস জিতে বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নামার পর প্রথম দিন এই পিচে ৮ উইকেটের পতন হয়েছিলো। পরের দেড় দিনে ৩২ উইকেট পড়েছে। মজার ব্যাপার হলো মোট ৪০ উইকেটের মধ্যে ৩৪টিই নিয়েছেন স্পিনাররা। আর প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট তুলে নিয়ে এই লড়াইয়ে অনেক এগিয়ে রইলেন বাংলাদেশী স্পিনাররা। তাদের ঘুর্ণিবলে কূপোকাত হয়েছে সফরকারি দল। শেষ হাসি হেসেছে বাংলাদেশ। ২০৪ রানের লক্ষ্য নির্ধারণ করেও টাইগাররা জিতেছে ৬৪ রানের ব্যবধানে।
প্রথম ইনিংসে নাঈম হাসান এবং দ্বিতীয় ইনিংসে তাইজুল ইসলামের অসামান্য বোলিংয়ে ভর করে মাত্র আড়াই দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুড়িয়ে দিলো বাংলাদেশ। এই টেস্টেই বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে ২০০তম উইকেট শিকার করে ফেললেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। সেই সাথে তিনি হয়ে উঠলেন ৩ হাজার রান করা ও ২ শ উইকেট শিকার করা বিশ্বের দ্রুততম অলরাউন্ডার।
প্রথম ইনিংসে এই ম্যাচের নিয়ন্ত্রন বাংলাদেশের পক্ষে এনে দিয়েছিলেন মুমিনুল হক। সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ ৩২৪ রানে পৌছে দিতে সাহায করেন তিনি। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলআউট হয়েছিলো ২৪৬ রানে। বাংলাদেশের অভিষিক্ত অফস্পিনার নাঈম হাসান নিয়েছিলেন ৫ উইকেট।
দ্বিতীয় দিনই ৫৫ রান তুলতে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিলো বাংলাদেশ। গতকাল সকালে ব্যাটিং করতে নেমেও খুব সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানরা। শেষ দিকে প্রতিরোধ গড়েছিলেন একমাত্র মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মুশফিকুর রহিম ১৯ রান ও মেহেদী হাসান মিরাজ ১৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন। এরপর রিয়াদ ৪৬ বলে ৩১ রান করে চেষ্টা করেছিলেন দলের স্কোর কিছুটা বড় করার। কিন্তু এই চেষ্টার পরও বাংলাদেশ ১২৫ রানে অলআউট হয়। ফলে তারা লিড পায় ২০৩ রানের।
২০৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরু থেকে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিয়েরন পাওয়েলকে ফিরিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম এবং নিজের ক্যারিয়ারের দুই শতম উইকেট শিকার করেন সাকিব। এর ফলে তিনি ইয়ান বোথামকে ছাপিয়ে সবচেয়ে দ্রুত ৩ হাজার রান ও ২ শ উইকেটের ক্লাবে ঢুকলেন। বোথাম এই কাজ করেছিলেন ৫৫ টেস্টে। বোথামের জন্মদিনেই কাবে পেছনে ফেললেন সাকিব। তিনি সময় নিয়েছেন ৫৪ টেস্ট। এ ছাড়া ক্রিস কেয়ার্নস ৫৮ টেস্টে, অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ ৬৯ টেস্টে ও কপিল দেব ৭৩ টেস্টে এই ক্লাবে প্রবেশ করেছেন।
সাকিব ও তাইজুলের দুটি করে উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১১ রানে হারিয়ে ফেলে ৪ উইকেট। এরপর হেটমায়ার এসে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেন। তিনি ১৯ বলে ২৭ রান করে মিরাজের শিকার হয়ে ফেরেন। এখান থেকে তাইজুল আবার দ্রুত আঘাত করতে থাকেন ক্যারিবীয় ব্যাটিং লাইন-আপে। এক পর্যায়ে ৭৫ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর এই সময় বাংলাদেশকে ভয় পাইয়ে দেওয়া একটা জুটি গড়েন অ্যাম্ব্রিস ও ১০ নম্বরে নামা ওয়ারিকান। দু জনে ৬৩ রান যোগ করে ফেলেন। আবারও মিরাজ এসে ৪১ রান করা ওয়ারিকানকে ফেরান। আর ৪৩ রান করা অ্যাম্ব্রিসকে ফিরিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন তাইজুল। সেই সাথে নিশ্চিত করেন নিজের ৬ উইকেট শিকার।
ইত্তেফাক/আরকেজি
