বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, যদি ক্ষমতায় যেতে চান তাহলে সমস্ত রাজবন্দী ও খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। জনগণের সমস্ত অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে করে একটি অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে হবে। যে নির্বাচন পরিচালনা করবেন একটি নিরপেক্ষ সরকার। তাহলেই আপনাদের ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাছাড়া ক্ষমতায় যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা আপনাদের নেই।
আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় পার্টি (জাফর) আয়োজিত ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ড. টি আই এম ফজলে রাব্বি চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন সংগঠনের মহাসচিব মোস্তাফা জামাল হায়দার, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান, ইসলামী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান এম এ রকিব, ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তাফা ভুইয়া প্রমুখ।
মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে যারা নির্বাচনের কথা ভাববে তারা অলীক স্বর্গে বসবাস করবে। দেশনেত্রীকে অবশ্যই মুক্তি দিতে হবে। দেশনেত্রী নিয়েই আমরা নির্বাচনের যাব।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের ঐক্যকে আরো দৃঢ় করতে হবে। জনগণ, সংগঠন ও সমস্ত রাজনৈতিক দলের ঐক্যে দুর্বার গণআন্দোলনের মধ্যে দিয়ে এ দানবীয় সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
‘অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনে আনতে আমরা কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করবো না’-নির্বাচনের কমিশনের এমন বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের যে মূল এজেন্ডা, সরকার যা চাইছে, সেই কথাটা বলেছেন নির্বাচন কমিশন। আপনারা (ইসি) করবেন না, সেটা আমরা জানি। আপনাদের ওখানে বসানো হয়েছে আওয়ামী লীগকে আবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নিয়ে আসার জন্য। এটা আমরা বলেই যাচ্ছি। এর মধ্যে আমাদের কোনো রাগ নেই।
আওয়ামী লীগের ৭ মার্চ পালন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনারা ৭ মার্চ পালন করলেন। খুব ভালো কথা। সরকারি টাকা খরচ করে, বিলবোর্ড লাগিয়ে এবং ঢাকার শহর বন্ধ করে ৭ মার্চ পালন করলেন। তাহলে আমাদের সমাবেশ করতে দিচ্ছেন না কেনো? আমাদের সভাগুলোতে বাধা দিচ্ছেন কেনো? আপনারা বলছেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিবেন না। আমাদের প্রত্যেকটা কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। কিন্তু প্রত্যেকটা কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছেন। অফিস থেকে বের হতে দেন না। আর বলবেন, আপনারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেন না। এটা জনগণের সাথে প্রতারণা। কিন্তু প্রতারণা করে বেশিদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না।
খালেদা জিয়ার সাজা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাটি সম্পূর্ণ জাল নথির উপর প্রতিষ্ঠিত। কারণ তাদের (সরকার) মূল উদ্দেশ্য খালেদা জিয়া, বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা। যাতে করে তারা আবারও ক্ষমতায় যেতে পারে। এ ধরনের মামলায় সাজা হওয়ার পরেই জামিন পাওয়া ন্যূনতম নাগরিক অধিকার। সেখানেও তারা হস্তক্ষেপ করেছে। সুতরাং সেই অধিকার থেকে খালেদা জিয়া বঞ্চিত হয়েছেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা গণতন্ত্রের কথা বলছি। কিন্তু সেই গণতন্ত্র কোথায়। অধিকার কোথায়? মানুষের ন্যূনতম যে নাগরিক অধিকার সেটা নেই।
ইত্তেফাক/এমআই
