সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বাংলাদেশের নেয়া পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে জাতিসংঘ। বিশ্ব সংস্থাটির অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার বিষয়ক কমিটির এক সভায় পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বাংলাদেশে বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জনের প্রশংসা করা হয়। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে অগ্রগতির মাধ্যমে বাংলাদেশ বর্তমানে ৩৪তম অবস্থানে আছে বলে জানানো হয়।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ১৫-১৬ মার্চ দুইদিন ব্যাপী জাতিসংঘের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার বিষয়ক কমিটির ৬৩তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের নেতৃত্বে কমিটির ১৮ সদস্যের এক বোর্ডের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, শ্রম মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সমাজ কল্যাণ, কৃষি, শিক্ষা, নারী ও শিশু, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, আইন-বিচার ও সংসদ, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের প্রতিনিধিবৃন্দ।
দুইদিন ব্যাপী এই আলোচনায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানান, কিভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চাওয়া বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে মানবাধিকার খাতের উন্নয়নে করে চলেছে বর্তমান সরকার। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে মানবাধিকারের বিভিন্ন খাতে হওয়া উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বাংলাদেশের এই প্রতিনিধি দল।
মানবাধিকার নিশ্চিতে প্রণয়ন করা বিভিন্ন আইন ও নীতিমালার পাশাপাশি কার্যকর কর্মসূচি এবং পরিকল্পনার বিষয়গুলো পরিসংখ্যানসহ উপস্থাপনা করা হয় এই কমিটির সামনে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কিভাবে সাধারণ মানুষের কাজ করার অধিকার থেকে শুরু করে উন্নত জীবন মানের অধিকার নিশ্চিত করছে তা উপস্থাপন করা হয়। বাংলাদেশে শিক্ষার উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা প্রদান, ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার, বৈষম্য দূর করতে বিভিন্ন আইন ও প্রকল্প গ্রহণ ও সাম্য আনতে সরকার যে কার্যক্রমগুলো নিয়েছে তা বর্ণনা করা হয় কমিটির তৈরি করা বোর্ডের সামনে।
বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল জানায়, জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণে ‘অ্যান্টি-ডিসক্রিমিনেশন বিল ২০১৫’ পাশ করার পাশাপাশি আয়কর ব্যবস্থার উন্নয়ন, শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ, অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক (গ্রে ইকোনমি) ব্যবস্থা থেকে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় নিয়ে আসার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ, জন্ম নিবন্ধন ও বাল্যবিবাহ বন্ধে বর্তমান সরকার বহুমুখী কার্যক্রম ও সফলতার পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হয়।
IMG0
বৈষম্য দূরীকরণে বাংলাদেশের পদক্ষেপ সম্পর্কে কমিটির এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল জানায়, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনে জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিতে বিল পাশ করা হয়। ইনক্লুসিভ ডেভলোপমেন্ট ইনডেক্সে বাংলাদেশ বর্তমানে ৩৪তম অবস্থানে আছে বলে উল্লেখ করা হয়।
মানবাধিকার সংরক্ষণ ও উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারে দৃঢ় অঙ্গীকার ও কার্যক্রমের প্রশংসা করে জাতিসংঘের এই কমিটি। সেই সঙ্গে মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে আসা কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসাও করে কমিটি।
সমাপনী অধিবেশনে কমিটির চেয়ারপার্সন মিস. ভার্জিনিয়া ব্রাস গোমেজ এবং বাংলাদেশের জন্য নিযুক্ত পর্যবেক্ষক কমিটির দূত মিস. সান্দ্রা লিবেনবার্গ বাংলাদেশকে তার কার্যাবলীর জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, বাংলাদেশ সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিতে যা করছে তা নিশ্চিতভাবে প্রশংসার দাবি রাখে। বাংলাদেশ বিষয়ক পর্যালোচনা কমিটির সামনে শাহরিয়ার আলমের নেতৃত্ব বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল যেই ইতিবাচক মনোভাব ও দক্ষতা নিয়ে প্রতিটি প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিয়েছে, তার প্রশংসা করেন মিস, ভার্জিনিয়া।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, মানবাধিকার সুরক্ষা ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার বিষয়ক কমিটির সাথে আরো দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাবে এবং সময়মত প্রতিবেদন দাখিল করবে।
ইত্তেফাক/রেজা
