সমাজকণ্যাণ মন্ত্রী ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ১৯৭৪ সালে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই প্রথম দেশের সাধারণ মানুষের জন্য সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ দেবার ব্যবস্থা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু দেশের মানুষকে নিজের জীবনের চাইতেও বেশি ভালবাসতেন। তিনি খেটে খাওয়া সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের কথা ভাবতেন। তাদের পেটে কি করে দু’বেলা খাবার জুটবে তা নিয়ে চিন্তা করতেন। তিনি সমাজসেবায় সুদমুক্ত ঋণ প্রথা চালু করেছিলেন গরীব মানুষের কথা ভেবেই। অথচ এই বাংলাদেশেই ক্ষুদ্রঋণের নামে গরীব মানুষের সহায় সম্বল কেড়ে নেবার ষড়যন্ত্র করেছে একটি বিশেষ ব্যক্তি। তারা দেশে এই ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছে সত্যি কিন্তু তাতে সাধারণ ক্ষেটে খাওয়া মানুষের কোনই লাভ হয়নি। এ নিয়ে দেশের মানুষ বহুবার আন্দোলনে নেমেছে।
শনিবার দুপুরে ঢাকার আগারগাওস্থ সমাজসেবা অধিদপ্তরের অডিটরিয়ামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮ তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রাশেদ খান মেনন বলেন, অনেক গরীব পরিবারের অসহায় মহিলাদের এই সুদযুক্ত ঋণের দায় শোধ করতে নিজের শেষ সম্বল বাড়ীভিটাসহ কানের দুল বিক্রি করতে হয়েছে। একজন গরীব মানুষও পাওয়া যাবে না যিনি ড. ইউনুছের এই সুদযুক্ত ঋণের বোঝা নিয়ে শান্তিতে কখনো ঘুমাতে পেরেছেন। বঙ্গবন্ধুর সাথে নানা ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন দেশের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ রাশেদ খান মেনন।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গাজী মুহাম্মদ নুরুল কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুশান্ত কুমার প্রামাণিক, পরিচালক (কার্যক্রম) আবু মো. ইউছুফ। শনিবার দিবসটি পালনে সারাদেশে র্যালি, বেলুন উড়ানো, কেক কাটা, দেয়ালিকা প্রকাশ, রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সমাজসেবা পরিবারের সকল সদস্য, বিভিন্ন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের ২০ হাজার নিবাসী শিশু গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় সারাদেশে দিনটি পালন করেন। অনুষ্ঠান শুরুতে সমাজ কল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বঙ্গবন্ধুর ৯৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ৯৮ পাউন্ড ওজনের কেক কেটে জন্মদিনের আনন্দ এতিম শিশুদের সাথে ভাগাভাগি করে নেন।
ইত্তেফাক/এমআই
