এসিড নিক্ষেপ সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর মামলার রায়ে একমাত্র আসামি সাইফুল ইসলাম (৩৫) নামে এক যুবকের যাবজ্জীবন সাজা ও এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল জয়পুরহাট-২ এর বিচারক ড. আব্দুল মজিদ আজ মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টার সময় জনাকীর্ণ আদালতে চাঞ্চল্যকর ওই মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, জেলার কালাই উপজেলার কাথাইল গ্রামের আব্দুস সালাম সরদারের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে সাদিয়া ইসলাম সোমাকে প্রাইভেট পড়াতো একই এলাকার সম্পর্কে মেয়ের আপন ফুফা সাইফুল ইসলাম। এক পর্যায়ে সোমাকে কু-প্রস্তাব ও অশালীন কথা-বার্তা বললে বিষয়টি বাবা-মাকে জানায়। এ থেকে সোমার সঙ্গে সাইফুলের শুরু হয় শত্রুতা। এর একপর্যায়ে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট দিবাগত রাতে ঘরের জানালা দিয়ে এসিড নিক্ষেপ করলে সোমার ডান পাশের মুখমণ্ডল সহ কোমর পর্যন্ত শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়।
ওই ঘটনায় সোমার চিকিৎসা শেষে ২১ আগস্ট তার বাবা আব্দুস সালাম বাদী হয়ে সাইফুল ইসলামকে আসামি করে কালাই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত এই মামলায় ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মঙ্গলবার ওই রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আদালতে থাকা মামলার বাদী আব্দুস সালাম এই রায়ে সন্তুষ্ট নয় বলে জানান। মা আরজিনা বেগম আপিল করবেন বলে জানান এবং আসামির মৃত্যুদণ্ড দাবী করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন বিশেষ পিপি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত অ্যাড. ফিরোজা চৌধুরী ও আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান।
ইত্তেফাক/এসএস
