কারাভোগের পর বেকসুর খালাস পেলেন আব্দুল কাদের। গরু পাঁচারের একটি মামলায় নিম্ন আদালত তাকে ৫ বছর কারাদণ্ড দিয়েছিল। জেল থেকে ওই সাজার বিরুদ্ধে করেছিলেন আপিল। কিন্তু নিষ্পত্তি হয়নি আপিলের।
আপিল বিচারাধীন থাকাবস্থায় সাজা ভোগ করেন তিনি। প্রায় তিন যুগ পর বুধবার সেই আপিলের নিষ্পত্তি হল। আর আপিল নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে উচ্চ আদালত থেকে বেকসুর খালাস পেলেন তিনি। তার গায়ে এতদিন ‘চোরের’ যে তকমা জুটেছিলো সেটা ঘুচল ৩১ বছর পর।
ভারত থেকে ছয়টি গরু পাঁচারের অভিযোগে ১৯৮৬ সালে যশোরের শার্শা থানায় আব্দুল কাদের ও মফিজুর রহমানের নামে একটি মামলা করা হয়। তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) বাদি হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি করেন। ওই বছরই যশোরের একটি আদালত পাঁচ বছরের সাজা দিয়ে তাদেরকে কারাগারে পাঠায়। ১৯৯১ সালে কারাগার থেকে সাজার রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন। আর ওই আপিলটি করা হয় যশোরে স্থাপিত হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চে।
পরবর্তীকালে অষ্টম সংশোধনী মামলায় ঢাকার বাইরে নেয়া এসব বেঞ্চ গঠনের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে। ফলে ওই আপিলটি আর নিষ্পত্তি হয়নি। পরে সাজা ভোগ করে ১৯৯১ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পান আব্দুল কাদের। আর নিষ্পত্তির অপেক্ষায় হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পড়েছিল তার আপিলটি। দীর্ঘ প্রায় তিন যুগ পর তার আপিলটি শুনানির জন্য হাইকোর্টে আসে। ইতিমধ্যে আইনজীবী নিয়োগের জন্য তার প্রতি নোটিশও জারি করে আদালত। পরে অস্বচ্ছল এই ব্যক্তিকে আইনি সহায়তা দেয় সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটি।
বুধবার আপিল শুনানিতে তার পক্ষে অংশ নেয় আইনজীবী কুমার দেবুল দে। শুনানি শেষে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হকের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ আপিল গ্রহণ করে সাজার রায় বাতিল করে দেয়। এর ফলে তিনি বেকসুর খালাস পান।
ইত্তেফাক/ইউবি
