নৌযান শ্রমিকদের দেশব্যাপী কর্মবিরতির অংশ হিসাবে চট্টগ্রামেও ১১ দফা দাবিতে সব ধরনের পণ্য ও যাত্রীবাহী নৌযানে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিকরা। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য নিয়ে অপেক্ষমান জাহাজগুলো থেকে কোনো ধরনের পণ্য খালাস বা লাইটারিং হয় নি। মঙ্গলবার সদরঘাট ও বাংলাবাজার জেটিঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় আড়াইশ লাইটারেজ জাহাজকে সারাদিন অলস বসে থাকতে দেখা গেছে।
বন্দর সূত্র জানায়, বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ প্রায় ৪০টি বড় জাহাজে খালাসের অপেক্ষায় নানা ধরনের খাদ্যপণ্য ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল রয়েছে। বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে আসন্ন রমজান মাস উপলক্ষে পণ্য লাইটারিং ও খালাসে বহির্নোঙর ও লাইটারেজ জেটিগুলোতে তুমুল ব্যস্ততা চলছিলো। কর্মবিরতিতে মঙ্গলবার দিনভর অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় আমদানিকারক, ব্যবসায়ীমহল এবং বিভিন্ন শিল্পের মালিকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ বরেছেন। এসব লাইটারেজ জাহাজ নদীপথেও দেশের নানা স্থানে বিভিন্ন শিল্পকারখানার ঘাটে কাঁচামাল পৌঁছে দিয়ে থাকে। খাতুনগঞ্জ কেন্দ্রীক ব্যবসায়ী সূত্রগুলো জানায়, নৌযান কর্মবিরতির কারণে অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে আসন্ন রমজানের অত্যাবশ্যকীয় ভোগ্যপণ্য ছোলা, চিনি, ডাল, গমের সরবরাহে গুরুতর বিঘ্ন ঘটার আশংকা রয়েছে।
আরও পড়ুন: বর্ণিল অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে লন্ডনে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত
বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের চট্টগ্রাম অঞ্চলের নেতা সৈয়দ শাহাদাত হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, 'চট্টগ্রামে মঙ্গলবার জেটি ও বহির্নোঙরে কোনো ধরনের লাইটারেজ জাহাজ ও নৌযান চলাচল করে নি। সারাদেশের মতো এখানেও কর্মবিরতি চলছে। ১১ দফা দাবিতে সব ধরনের পণ্য ও যাত্রীবাহী নৌযানে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিকরা'।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধ, ২০১৬ সালের ঘোষিত বেতন স্কেলের পূর্ণ বাস্তবায়ন, ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস দেয়া ও হয়রানি বন্ধ, নদীর নাব্যতা রক্ষা, নদীতে প্রয়োজনীয় চিহ্ন, বয়া ও বাতি স্থাপন ইত্যাদি। বন্দর সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতরে সংরক্ষিত এলাকার জেটিগুলোতে পণ্য উঠানামা ও ডেলিভারি কার্যক্রম যথারীতি চলেছে।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
