বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে : রাঙ্গা

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৮, ১৪:১১
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মো. মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের নিরলস পরিশ্রমে বাংলাদেশ বিগত এক দশকে ব্যাপক উন্নতি করেছে। আমরা এখন স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীলে উত্তরণ করেছি, এই ধারা টেকসইভাবে অব্যাহত রাখতে হবে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনের সফলতার ধারাবাহিকতায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সবাইকে নিরলসভাবে কাজ করতে হবে।
 
আজ শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘উন্নয়নের গতিধারায় বাংলাদেশ- প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। 
 
এলজিআরডি ও সমবায় বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ বিষয়ে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), কুমিল্লা এবং পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ), বগুড়া যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।
 
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এন সিদ্দিকা খানমের সভাপতিত্বে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন আরডিএ-এর মহাপরিচালক এম মতিন, বার্ড-এর মহাপরিচালক ড. এম মিজানুর রহমান ও বিআরডিবির মহাপরিচালক মউদুদউর রশীদ সফদার। সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বার্ড-এর পরিচালক মো. মিজানুর রহমান ও আরডিএ-এর পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম খান।
 
প্রতিমন্ত্রী ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ২০০৬ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ৪৯৪ মার্কিন ডলার, সেখানে ২০১৭ সালে এসে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬১০ মার্কিন ডলারে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের নিরলস পরিশ্রমে বাংলাদেশ বিগত এক দশকে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আমরা স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীলে উত্তরিত হয়েছি। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক, সামাজিক পরিষদের উন্নয়ন নীতি বিষয়ক কমিটি (সিপিডি) সম্প্রতি বাংলাদেশের দারিদ্র্য হ্রাস ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি দেখিয়ে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যোগ্যতা অর্জন নিশ্চিত করেছে।
 
মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক- এ তিনটির যে কোন দুটি অর্জনের শর্ত থাকলেও বাংলাদেশ তিনটি সূচকেই কাংখিত মানদন্ডেই উন্নীত হয়েছে। মানদন্ড অনুযায়ী বছরে একটি দেশের মাথাপিছু আয় হতে হয় কমপক্ষে ১ হাজার ২৩০ মার্কিন ডলার, বর্তমানে বাংলাদেশের আ্য় ১ হাজার ৬১০ ডলার। মানবসম্পদ সূচকে ৬৬ শতাংশ প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশ অর্জন করেছে ৭২ দশমিক ৯ শতাংশ।অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক হতে হয় ৩২ শতাংশ বা তার কম, বাংলাদেশের রয়েছে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ। 
 
তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ওপর আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি এবং তা ভবিষ্যতে তা আরো বাড়াতে হবে।
 
ইত্তেফাক/কেকে