তরুণদের নাট্য প্রতিভা বিকাশে কিছু করতে পারলে ভালো লাগবে: আজম খান

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৮, ১১:৫২
 
বাংলা নাটকের প্রচার ও প্রসারে নাটক রচনার পাশাপাশি তরুণ নাট্যকার বিনির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন জনপ্রিয় নাট্যকার, অভিনেতা ও প্রযোজক আজম খান। উপন্যাস দিয়ে সাহিত্য রচনা শুরু করেন তিনি। এরপর ছোটগল্প ও বর্তমানে নাটক নিয়েই কাটছে ব্যস্ত সময়। টেলিভিশিন নাট্যকার সংঘের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন আজম খান। সমপ্রতি কথা হলো উনার কর্মকাণ্ডের নানান দিক নিয়ে।
 
আমরা জানি ব্যস্ততার মধ্যদিয়ে কাটছে আপনার সময়। বর্তমানে আপনার লেখা কোন নাটকগুলোর উপর কাজ চলছে?
আজম খান: আমার তিনটি একক নাটক স্বনামধন্য তিনটি বেসরকারি টেলিভিশনে অনএয়ারের অপেক্ষায়। দুইটা নাটকের শুটিং চলছে। এগুলো হলো ‘মনে রবে কিনা রবে আমারে’ ও ‘তোমার স্পর্শ’। এছাড়াও ‘উত্তরী হাওয়া’ নামে প্রায় ৩০০ পর্বের একটি ধারাবাহিকের কাজ শুরু হচ্ছে নাগরিক টেলিভিশনে জন্য। আর সামনে যেহেতু ঈদ। স্বাভাবিকভাবেই সেদিকটাতেও নজর রাখতে হচ্ছে।
 
উপন্যাসে তো ভালোই করছিলেন। হঠাত্ নাটকের প্রতি আগ্রহী হলেন কিভাবে?
আজম খান: প্রখ্যাত পরিচালক, নাট্যকার গিয়াস উদ্দিন সেলিম ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে নাটকের প্রতি মোহ তৈরি হয়। একদিন সেলিম ভাইকে নাটক লেখার আগ্রহ দেখালাম। উনিও বেশ উত্সাহ দিলেন। বললেন, তোমার গল্প খুব সুন্দর হয়, লিখলে ভাল হয়। আমি ‘শ্রাবণ সন্ধ্যা’ নামে একটা গল্প লিখে সেলিম ভাইকে দেখানোর পর তিনি পিঠ চাঁপড়ে দিলেন। সেই থেকেই মূলত নাটক লেখা শুরু।
 
এরপর তো অনেক হলো পথচলা। এই দীর্ঘসময়ে আপনার সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে যদি একটু বলেন?
আজম খান: টেলিভিশনের জন্য তো অনেক নাটক লেখা হয়েছে। সেই সংখ্যাটা বলা কঠিন। একক নাটকের সংখ্যা আনুমানিক ৬০-৬৫টি হবে। আমার প্রথম রচিত নাটক মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন পরিচালিত ‘ক্ষ্যাপা’। এরপর ধারাবাহিক ‘মনের মানুষ নাইরে দেশে’ দিগন্ত টিভিতে প্রচার হয়। আলী রেজা পরিচালিত ‘তৃতীয় পৃষ্ঠা’,‘সার্টিফিকেট’ ও ‘ঘোর’, সরিফুর রহমান ডাবলুর ‘নমিনি’, সরদার রোকনের ‘নীলিমার রূপ কথা’, ‘লুকোচুরি’, ‘হাতবাড়ালেই পাবে তুমি’, ‘এই বসন্তে’, সুমন রেজার ‘কুটুম বাড়ি’ ‘টিভি পরিবার’, রাশেদ রাহার ‘মিতা অথবা ছুটির গল্প’, আদিত্য জনির ‘দুই পুতুলের গল্প’, শাহরিয়ার সুমন ‘লালশাড়ী নীল আঁঁঁচল’, ‘বুনো হাঁস’, ‘লাগছে ভাল আজ’, সম্রাট নাসিরের ‘নিশি কাব্য’, ‘গুলবাহাদুর লজ’ প্রভৃতি। বর্তমানে কায়সার আহমেদের সঙ্গে ধারাবাহিক ‘নীল ফড়িংয়ের গল্প’, ফরিদুল হাসানের ‘ভুল ভুলিয়া’ নিয়ে কাজ করছি। আরও তিনটি একক নাটক প্রচারের অপেক্ষায়। এ ছাড়া কয়েকটা টিভিসির কাজ শেষ হয়েছে।
 
টানা লিখেছেন চলেছেন। এতো শক্তি কোথায় পান?
আজম খান: পরিবারই আমার লেখার শক্তি জোগায়। আমার স্ত্রীর সার্বক্ষণিক সহযোগিতা আমার চলার পথকে মসৃণ করে তোলে।
 
তরুণ নাট্যকার নির্মাণে আপনাদের টেলিভিশন নাট্যকার সংঘ কি কি কাজ করছে?
আজম খান: টেলিভিশন নাট্যকার সংঘ আমার প্রাণের সংগঠন। আমি এর সাংগঠনিক সম্পাদক। এই সংগঠনের মাধ্যমে নাট্যকারদের নিয়ে কিছু করতে চাই। এর ধারাবাহিকতায় নাট্যকারদের প্রশিক্ষনের উদ্যোগ নিয়েছি। ইতিমধ্যেই তিন মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণ কোর্স শুরু হয়েছে। আশা করছি এ উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন নাট্যকার তৈরির পাশাপাশি প্রতিভাবান নাট্যকার বেরিয়ে আসবে। এছাড়া বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে অনেক দূর এগিয়ে যেতে চাই। প্রতিভা বিকাশের মাধ্যমে তাদের মেধা মূল্যায়নে কাজ করতে চাই। সত্যি কথা বলে কী তাদের জন্য কিছু করতে পারলে আমারও ভাল লাগবে।
 
নাটকের দর্শকদের উদ্দেশে কিছু বলেন।
আজম খান: দর্শকদের উদ্দেশে একটাই কথা বলব আপনারা দেশের নাটক বেশি বেশি দেখুন, দেশীয় সংস্কৃতি চর্চাকারীদের উত্সাহিত করুন। তাহলেই দেশীয় সংস্কৃতি বিকশিত হবে এবং বেঁচে থাকবে।
 

ইত্তেফাক/এএম