আলমডাঙ্গায় কলেজ ছাত্রীকে শ্লীলতাহানীর প্রতিবাদে মানববন্ধন-স্মারকলিপি

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৮, ১৫:৪৩
কলেজ ছাত্রীকে বাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে নিয়ে যাওয়া ও তাকে শ্লীলতাহানীর প্রতিবাদ এবং বখাটে শামীম ও লাল্টুর বিচারের দাবিতে আলমডাঙ্গা প্রাইম পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শহরে মানববন্ধন করেছেন। রবিবার বেলা ১১টার দিকে শহরের জনবহুল আলিফউদ্দিন মোড়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিনসহ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে দুই বখাটের বিচারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাহাত মান্নানের হাতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
 
অভিযোগে বলা হয়, ছত্রপাড়া গ্রামের মান্নান জোয়ার্দ্দারের মেয়ে রানু আলমডাঙ্গা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ফ্যাসান ডিজাইন বিষয়ের ৪র্থ সেমিস্টারের ছাত্রী। রানুর কলেজে আসা-যাওয়ার পথে একই গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে বখাটে শামীম ও মনির ছেলে লাল্টু উত্ত্যক্ত করে আসছিল। তারা রানুকে কুপ্রস্তাবও দিত। এতে রাজী না হওয়ায় গত ১৪ মার্চ সন্ধ্যায় শামীম ও লাল্টু রানুকে টেনে হিঁচড়ে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বাড়িতে কেবল রানুর ১০ বছরের ছোট ভাই মামুন উপস্থিত ছিল। দুই বখাটে রানুর শরীরের জামা-ওড়নাও খুলে ফেলার চেষ্টা করে। রানুর ছোট ভাই মামুন বোনকে বাঁচাতে গেলে তার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে বালকটির মাথা ফেঁটে যায়। দুই ভাই-বোনের চিৎকার চেচামেচিতে প্রতিবেশীরা চলে এলে দুই বখাটে সদর্পে চলে যায়। এরপর রানু ও মামুনকে রক্তাক্ত অবস্থায় হারদী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
IMG0
এরপর দিন ১৫ মার্চ সোমবার রানুর মা জুলিয়া খাতুন বাড়ি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্ত বখাটে শামীম ও লাল্টুর দৌরাত্বপনা কিছুতেই কমেনি। তারা নিয়মিত রানুকে উত্ত্যক্ত করেই আসছে। বাধ্য হয়ে আজ রবিবার রানুর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শহের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রাদান করেন।
 
স্মারকলিপি গ্রহণ শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাহাত মান্নান উপস্থিত সবাইকে নিজের মোবাইল নাম্বার দিয়ে বলেন, এই ধরনের উত্ত্যক্তের ঘটনা যখন যেখানেই ঘটবে তাদেরকে ধরে রেখে আামকে খবর দিবেন। আমি পুলিশ নিয়ে গিয়ে বখাটেরা যত বড় ক্ষমতাধরই হোক ভ্রাম্যমান আদালতে সাজা দিয়ে দেব। 
 
ইত্তেফাক/এমআই