প্রায় ১৬ বছর আগে মাত্র দুইজন কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল আইটি প্রতিষ্ঠান ইউওয়াই সিস্টেমসের। তবে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা এ রহমানের বেশিদিন লাগেনি সফলতা পেতে। শুধু আউটসোর্সিং নির্ভর প্রতিষ্ঠানেই নির্ভার থাকেননি তিনি, ধীরে ধীরে পরিধি বাড়িয়েছেন ব্যবসার। কাজ করছেন সামাজিক উন্নয়নেও। আর তাতে পেয়েছেন নানা পুরস্কার ও সম্মাননা।
এছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) পরিচালনা পর্ষদের ২০১৮-২০ মেয়াদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ফারহানা। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ট্রেড অ্যান্ড সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট থেকে পেয়েছেন ‘উইমেন এক্সপোর্টার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার। ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডেও ‘সেরা নারী উদ্যোক্তার স্বীকৃতি পান তিনি। এছাড়াও দেশে এবং বিদেশে আরো নানান পুরস্কার পেয়েছেন ফারহানা এ রহমান।
বেসিসের বর্তমান নির্বাহী কমিটিতেও ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। শুধু এই কমিটিতে নয়, বেসিসের একাধিক পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত ছিলেন এই তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসায়ী। তিনি মনে করেন, সফল ব্যবসায়ী হলেই হয় না। সংগঠন চালানো কিংবা এতে যুক্ত থেকে নিয়মিত কাজ করতে চাইলে আগ্রহ থাকাটা খুব বেশি প্রয়োজন। তার দাবি, ‘টিম হরাইজন’ নামের যে প্যানেল থেকে তিনি নির্বাচন করছেন সেই প্যানেলের সবারই এই আগ্রহটা আছে। ইতিমধ্যে তারা নাকি তা করিয়ে দেখিয়েছেনও। আগামী ৩১ মার্চ অনুষ্ঠেয় বেসিসের নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছেন ফারহানা।
ফারহানা আরো বলেন, ‘তিনটি বিষয়ে জোর দিচ্ছি বেশি। এক, তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য রপ্তানির জন্য নতুন বাজার খোঁজা। শুধু ইউরোপ, আমেরিকা নয়; পার্শ্ববর্তী দেশ কিংবা যেসব দেশ তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর হতে চাচ্ছে সেসব দেশেও বাংলাদেশের আইটি পণ্য পৌঁছে দিতে চাই। যেমন হতে পারে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ, আফগানিস্তান কিংবা জাপানও। দ্বিতীয়ত, আইটি খাতে আমাদের বর্তমান অবস্থা আসলে কী? সেটা খুঁজে বের করতে একটি জরিপ চালানো হবে। যাতে পুরো ইন্ডাস্ট্রির তথ্য উঠে আসে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, দিনদিন প্রযুক্তি ট্রেন্ড পরিবর্তন হচ্ছে। আইওটি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিংয়ের যুগ শুরু হচ্ছে। তাই যারা এখানে কাজ করছেন তারা যেন এসব প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন, এজন্য কৌশল খুঁজে বের করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। এছাড়া, ইথিক্যাল হ্যাকিংয়ে জোর দিতে চাই। এ বিষয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে চাই।’
ইত্তেফাক/সেতু
