যাত্রীবেশে বাসে ডাকাতি

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৮, ১৩:০৮
যাত্রীবেশে কুয়াকাটা থেকে বেনাপোলগামী কুয়াকাটা এক্সপ্রেসের একটি বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে বাগেরহাটের বারাকপুর শ্রীঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
 
ডাকাতরা ১৩জন যাত্রীকে কুপিয়ে জখম করে যাত্রীদের সর্বস্ব লুট করে নেয়। আহতদের মধ্যে ৮-৯ জনকে ভোর ৪টার দিকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাসে করে ভারতে চিকিৎসার জন্য বেশ কিছু যাত্রী যাচ্ছিলেন। সকলের পাসপোর্টসহ টাকা-পয়সা, ব্যাগ ডাকাতরা নিয়ে গেছে।
 
যাত্রীরা জানান, সন্ধ্যা ৭টায় বাসটি যশোরের বেনাপোলের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা থেকে রওনা করে। রাত আড়াইটার দিকে বাগেরহাটের বারাকপুর এলাকায় পৌঁছুলে ১০জন যাত্রীবেশী ডাকাত হঠাৎ ছুরিসহ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে লুটপাট শুরু করে। তারা যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সকল মালামাল লুটে নেয়। এসময় যাত্রীবেশী ওই ডাকাতদের ছুরিকাঘাতে চালক ও হেলপারসহ ১৩জন আহত হন। আহত কয়েকজনকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গাড়িতে বেশ কয়েকজন অসুস্থ যাত্রী ছিলেন তারা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে যাচ্ছিলেন।
 
তারা আরও জানান, পিরোজপুর থেকে ৭-৮ জন লোক যাত্রীবেশে বাসে উঠে। হঠাৎ বারাকপুর এলাকায় এলে গাড়ির চালককে চড়-থাপ্পড় মারে। প্রথমে সবাই ভেবেছিলো খারাপ চালাচ্ছে বলে হয়তো ড্রাইভারকে মারছে। পরে ডাকাতরা সবার কাছে যা ছিলো সব একে একে বের করতে বলে। এসময় তারা গাড়ির লাইট কিংবা টর্চলাইট কিছুই জ্বালাতে দেয়নি।
 
গাড়ির হেলপার জামির হোসেন জানায়, পিরোজপুর থেকে যাত্রীবেসে ১০জন ডাকাত গাড়িতে উঠেছে। তাদের সকলের অনলাইনে টিকিট বুকিং ছিলো। বারাকপুর এলাকায় এসে হঠাৎ তারা ডাকাতি শুরু করে। ডাকাতির পর তারা সেখানে নেমে গেলে একটি ছোট পিকআপ তাদেরকে তুলে নিয়ে দ্রুত বাগেরহাটের দিকে চলে যায়।
 
যাত্রীদের অভিযোগ, বাসের কোন স্টাফের সাথে ডাকাতদের যোগসাজশ থাকতে পারে। তা না হলে এতো বড় ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়ে ডাকাতরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে পারতো না।
 
ডাকাতির কবলে পড়া কুয়াকাটা এক্সপ্রেস খুলনার কাউন্টার প্রতিনিধি মো. আনাস ডাকাতির পর খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান। তিনি বলেন, যাত্রীরা সুস্থ হয়ে যে যেখানে যেতে চায় সেখানে পৌঁছে দেওয়া হবে।
 
কাটাখালি হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুল হকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ডাকাতির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
 
ইত্তেফাক/এসএস