চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। ওই সময় কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ব্রিটেনে যাবেন দুই প্রধানমন্ত্রী। আগামী ১৬ থেকে ২০ এপ্রিল ৫৩ জাতির এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ওই সম্মেলনের ফাঁকে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একটি বৈঠকের জন্য তত্পরতা শুরু করেছে দুই দেশ।
খবরে বলা হয়, শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে শীর্ষ বৈঠক হয়েছে প্রায় এক বছর আগে। এর মধ্যে কোনও তৃতীয় দেশেও তাঁদের সাক্ষাৎ হয়নি। দু’টি দেশেই নির্বাচন এগিয়ে আসছে। সম্প্রতি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ঢাকায় বিমস্টেক-এর নিরাপত্তা বিষয়ক বৈঠকে যোগ দেন। আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় গোখলে’র। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের আরও বেশি আস্থা অর্জন করাটাকে এখন অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমে ‘ট্র্যাক টু’ কূটনীতির দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র জানায়, লন্ডনে বৈঠক হলে আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করবেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। তবে ওই বৈঠকে তিস্তা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব হবে না মোদীর পক্ষে। সম্প্রতি ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিস্তা ছাড়াও আরও অনেকগুলো দিক রয়েছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে। বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ভারত পাশে রয়েছে। যে কাজগুলো ইতিমধ্যেই চলছে তার পাশাপাশি নতুন কোন ক্ষেত্রে সমন্বয় বাড়ানো যায় কিনা তা নিয়ে কথা বলবেন শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হবে। প্রতিবেশী দেশে নির্বাচনের মুখে সহিংসতার ঘটনা বাড়লে তার প্রভাব সীমান্তে পড়তে পারে এই উদ্বেগ রয়েছে নয়াদিল্লির। তবে তিস্তা নিয়ে আশু নির্দিষ্ট কোনও পরিকল্পনা না থাকলেও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য ভারত যে আন্তরিক, এবার সে কথা স্পষ্টভাবেই জানানো হবে ঢাকাকে। রাখাইন প্রদেশকে আর্থ-সামাজিকভাবে ঢেলে সাজানোর জন্য কী পদক্ষেপ নিলে সুবিধা হয়, সে বিষয়ে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে ভারত। গত বছরের শেষে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত জেলায় উন্নয়নের জন্য একটি চুক্তিপত্রে সই করেছে ভারত।
ইত্তেফাক/এমআই
