পদ্মার বুকে সিবোটে চড়ে দৃশ্যমান পদ্মা সেতুর অবকাঠামো নিজ চোক্ষে অবলোকন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ। সোমবার বিকেল তিনি পদ্মায় সেতুর কর্মযজ্ঞ দেখে অভিভূত হন। শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতুর দৃশ্যমান ৪৫০ মিটার অবকাঠামো ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
এর আগে সোমবার দুপুরে পদ্মাসেতু নির্মাণের কর্মযজ্ঞ পরিদর্শনে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে আসেন রাষ্ট্রপতি। দুপুর ১টা ৪৭ মিনিটে মাওয়ার পাশে জেলার শ্রীনগর উপজেলার দোগাছিস্থ পদ্মাসেতু প্রকল্পের সার্ভিস এরিয়া-১ এর হেলিপ্যাডে রাষ্ট্রপতির হেলিকপ্টার অবতরণ করে। রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস ও মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ, সাবেক সাংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ মো. মহিউদ্দিন, সেতু সচিব খন্দকার খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচারক সফিকুল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম, পদ্মা সেতুর উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. কামরুজ্জামান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহ মো. মুসা ও নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের প্রমুখ।
সার্ভিস এরিয়ায় বিশেষ কটেজে উঠেন তিনি। এখানেই তাকে পদ্মা সেতুর সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে ব্রিফিং করা হয়। মধ্যাহ্ন ভোজ শেষে মুন্সীগঞ্জের কুমারভোগের বিশেষায়িত কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রপতি। পরে বিকেলে সিনোহাইড্রো ঘাট-বি এলাকা থেকে পদ্মার বুকে সিবোডে করে পদ্মাসেতুর জাজিরার প্রান্তের উদ্দেশ্যে রওনা হন রাষ্ট্রপতি। যাত্রাপথে সেতু নির্মাণের কর্মযজ্ঞ দেখেন। জাজিরা প্রান্তে পৌঁছে রাষ্ট্রপতি পদ্মা সেতুর দৃশ্যমান ৪৫০ মিটার অবকাঠামো অবলোকন করেন।
IMG0
মধ্যাহ্ন ভোজে পদ্মার ইলিশ ও আড়িয়ল বিলের কৈ
পদ্মাসেতু প্রকল্পের সার্ভিস এরিয়া-১ এ সোমবার মধ্যাহ্ন ভোজে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের খাবার তালিকায় ছিল পদ্মার সুস্বাদু ইলিশ আর দেশের অন্যতম প্রাচীন আড়িয়াল বিলের কৈ মাছ। স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণের কর্মযজ্ঞ পরিদর্শনে এ দিন দুপুরে মুন্সীগঞ্জে এসেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ। জেলার লৌহজং উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাছাড়া ময়মনসিংহের মান্ডা ও কুমিল্লার পুঁটি মাছও ছিল। মধ্যাহ্ন ভোজ শেষে রাষ্ট্রপতি সার্ভিস এরিয়া-১ থেকে বিকেলে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যান। এ সময় দৃশ্যমান পদ্মা সেতুর নির্মাণযজ্ঞ দেখে রাষ্ট্রপতি অভিভূত হন।
শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি ফেরি ৬ ঘণ্টা বন্ধ
পদ্মা সেতু নির্মাণের কর্মযজ্ঞ পরিদর্শনে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের আগমন ঘিরে সোমবার পদ্মার দু’পাড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা জনিত কারণে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ৬ ঘণ্টা ফেরিসহ নৌযান চলাচল বন্ধ থাকে। শিমুলিয়া ঘাটের বিআইডব্লিউটিসির ম্যানেজার (বাণিজ্য) গিয়াসউদ্দিন পাটোয়ারি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় দুপুর ১টার দিকে নৌরুটে ফেরিসহ সকল ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়। সন্ধ্যার দিকে নৌরুটে ফেরিসহ নৌযান চলাচল শুরু হয় ৬ ঘণ্টা পর।
তিনি আরো জানান, সোমবার শিমুলিয়া ঘাটে তেমন কোন যানবাহনের চাপ ছিল না। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় ফেরিসহ নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হলে সে সময় শিমুলিয়া ঘাটে ছোট-বড় ২শ যানবাহন অবস্থান করে। ফেরিঘাটে ছিল ৩টি ফেরি।
নির্মল পরিবেশে রাষ্ট্রপতি
নির্মল পরিবেশে রাষ্ট্রপতি পদ্মা সেতুর কর্মযজ্ঞ দেখে অভিভূত হন। মাওয়ার কুমারভোগের বিশেষায়িত কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। সেখানে ৭ নম্বর স্প্যান রং করা হচ্ছিল। তা দেখেন তিনি। এছাড়া সাড়ি সাড়ি রাখা অন্যান্য স্প্যান ও কর্মকাণ্ড নিজ চোক্ষে দেখেন এবং খোঁজখবর নেন। পরে রাষ্ট্রপতি সিবোডে করে পদ্মায় কর্মযজ্ঞ দেখেন। তিনি বোডে থেকে দুই নম্বর পিলারের কাছ থেকে ১ নম্বর খুঁটি অবলোকন করেন। এর পর সব খুঁটি ও খুঁটির স্থানগুলো দেখতে দেখতে আসেন ৪১ নম্বর খুঁটিতে। এখান থেকেই ৪২ নম্বর খুঁটি দেখেন। এরপর বোডটি বেক করে ক্রসিং চ্যানেল দিয়ে কাঠাঁলবাড়ি গিয়ে ৫টা ১০ মিনিটে নামেন। এখান থেকে জিপে করে নাওডোবার সার্ভিস এড়িয়া-২ গমন করেন। তিনি এখানে রাত্রি যাপন করবেন।
১৫ মিনিটের ব্রিফিং
রাষ্ট্রপতিকে পদ্মা সেতু নিয়ে ১৫ মিনিটের ব্রিফিং করেন প্রকল্প পরিচালক। তিনি নকশা ও বুকলেট নিয়ে পুরো বিষয়ে রাষ্ট্রপতি সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপতি প্রকল্প সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নও করেন। ব্রিফিং শুনে রাষ্ট্রপতি সরেজমিন খুরে পদ্মা সেতুর স্পষ্ট ধারণা নেন। বসন্তের বিকালে বৈচিত্রময় পদ্মা ঘুরে এবং কর্মযজ্ঞ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ইত্তেফাক/আরকেজি
