জাতীয় পার্টি-জেপি চেয়ারম্যান ও পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, যে কোনো দেশের জন্য তার যুবসমাজ এক অমূল্য সম্পদ। কারণ যুবশক্তিই প্রাণ-প্রাচুর্য ও কর্মচাঞ্চল্যে পরিপূর্ণ জনশক্তি। যে দেশে যুবসমাজের সংখ্যা যত বেশি, সেই দেশে উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির হারও তত বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশ জনসংখ্যা তত্ত্বের ভিত্তিতে এই সুবিধা ভোগ করছে। বিজ্ঞানমনস্ক ও আধুনিক প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ যুবসমাজ গড়ে তুলতে পারলে আমাদের জাতীয় অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে। জাতীয় পার্টি-জেপি’র ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল সোমবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি একথা বলেন।
যুবসংহতির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে গতকাল বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় জাতীয় পার্টি-জেপি চেয়ারম্যান ও পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর এই বাণী পাঠ করে শোনান জেপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী সম্পাদক সাদেক সিদ্দিকী। বাণীতে যুবসংহতির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আরো বলেন, এই শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনে যুবসমাজকে নিরলসভাবে কাজ করে যেতে হবে। আমি মনে করি, বাংলাদেশের যুবসমাজ যেমনভাবে ১৯৭১-এ আমাদের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অগ্রণী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল; আজকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরমুক্ত জাতি গঠনের সংগ্রামেও তারা তাদের অবদান রাখবে। আমরা চাই এমন একটি যুবসমাজ যারা ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও শ্রেণিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ, জাতি ও জনগণের কল্যাণে কাজ করবে।
যুবসংহতির প্রতিষ্ঠার দিনে যুবসংহতির সদ্য প্রয়াত সভাপতি এম এ কাইয়ুমসহ প্রয়াত সকল নেতা-কর্মীকে স্মরণ করে জেপি চেয়ারম্যান তাঁর বাণীতে আরো বলেন, যুবসংহতি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এদেশের যুবসমাজকে সংগঠিত করে গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে। সময়ের পরিক্রমায় জাতীয় যুবসংহতি আজ একটি পরিণত সংগঠন হিসেবে পূর্ণতা পেয়েছে।
জেপি’র ক্রীড়া সম্পাদক ও যুবসংহতির সহ-সভাপতি আলী আব্দুল্লাহ টিংকুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পার্টি-জেপি’র সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ অধিকার আদায়ের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে যুবসমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গঠনে যুবসমাজ দেশের মূল শক্তি। বর্তমান সরকার যুবসমাজের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যুবসংহতির সকল নেতা-কর্মীকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের জাতীয় যুবসংহতি নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করে। যুবসংহতি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি করে না। সকল অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুবসমাজকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। জেপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী সম্পাদক সাদেক সিদ্দিকী বলেন, আজকের যুবসমাজ অনেক বেশি সচেতন। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে, যার কারণে একটি আধুনিক ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে যুবসমাজকে প্রাধান্য দিতে হবে। কেননা তারাই পারে একটি সমাজকে বদলে দিতে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষায় যুবসমাজকে এগিয়ে আসার পাশাপাশি নিজেদেরকে সুশিক্ষিত হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয় যুবসংহতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য এএইচ সালাহউদ্দিন মাহমুদ ও এজাজ আহমেদ মুক্তা, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন রেণু ও আজিজ বাঙাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান খলিল, প্রচার সম্পাদক হুমায়ুন কবির রাজু, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, জেপি’র শিক্ষা ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মাহফুজ আলম, সহ সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক আজাদ দোভাষ ও যুবসংহতির সহ সভাপতি সৈয়দ দেলোয়ার হোসেন নান্নু প্রমুখ। যুবসংহতির সহ সভাপতি শাহীন কাদির, যুবসংহতির বরিশাল মহানগরের সভাপতি জাকির হোসেন সুলতান, যুবসংহতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ন ম নাজমুল হোসেন ও সদস্য রমিজুল ইসলাম প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় সামনের দিনগুলোতে যুবসংহতির সাফল্য ও সংগঠনের প্রয়াত নেতাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করা হয়। আলোচনা শেষে জেপি’র সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম জেপি ও যুবসংহতির নেতাদের নিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন। এদিকে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল সারাদেশেই যুবসংহতির উদ্যোগে গৃহীত কর্মসূচি পালন করা হয়।
ইত্তেফাক/নূহু
