পরীক্ষা শুরুর আগে প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ছিলেন শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা। কিন্তু প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ছাড়াই এইচএসসি ও সমমানের প্রথম দিনের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ কারণে পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তির ভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কয়েকটি গ্রুপে আগে থেকে ঘোষণার মাধ্যমে কিছু প্রশ্ন দেওয়া হলেও এর সঙ্গে মূল প্রশ্নের কোনো মিল পাওয়া যায়নি।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গতকাল সোমবার রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ পরিদর্শন করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মানুষের পক্ষে যা করা সম্ভব সবই করা হয়েছে। আমরা আশা করছি আর প্রশ্ন ফাঁস হবে না।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, নানা উদ্যোগের কারণে এবারের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি। ২৫ মিনিট আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সেট নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশ্নপত্রের প্যাকেট সিকিউরিটি টেপ দিয়ে আটকানো হয়েছে। প্রতি কেন্দ্রে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট রাখা হয়েছে। ট্রেজারি থেকে কেন্দ্রে প্রশ্ন পৌঁছাতে কড়া সতর্কতা অবলম্বন করা এবং ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের প্রবেশ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোচিং সেন্টার বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গতকালের পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক সিটে বসতে হয়। আর সিকিউরিটি কোডের মাধ্যমে ডাবল প্যাকেটে এইচএসসির কেন্দ্রে পাঠানো হয় প্রশ্নের একাধিক সেট। পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে লটারির মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রশ্নপত্রের সেট নির্ধারণ করা হবে। এরপর তা কেন্দ্রে কেন্দ্রে জানিয়ে দেওয়া হয়। কোন সেটে পরীক্ষা হবে তা জানানোর পরই কেন্দ্র সচিবরা ওই প্রশ্নের প্যাকেট খোলেন।
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন গতকাল সারাদেশে ১৩ হাজার ৭১৮ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন; বহিষ্কার হয়েছেন ৭ জন পরিদর্শক ও ৮৯ পরীক্ষার্থী। গতকাল এইচএসসিতে বাংলা প্রথমপত্র, সহজ বাংলা প্রথমপত্র, বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি প্রথমপত্র এবং ডিআইসিএসে বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষা হয়েছে।
আর মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে কুরআন মাজিদ এবং কারিগরি বোর্ডে এইচএসসি ভোকেশনালে সকালে বাংলা-২ (সৃজনশীল নতুন/পুরাতন সিলেবাস) ও বিকালে বাংলা-১ (সৃজনশীল নতুন/পুরাতন সিলেবাস) পরীক্ষা হয়েছে।
এ ছাড়া কারিগরির ব্যবসায় ব্যবস্থাপনাতে সকালে বাংলা-২ (নতুন সিলেবাস) ও বাংলা-২ (পুরাতন সিলেবাস) এবং বিকালে বাংলা-১ (সৃজনশীল নতুন সিলেবাস) ও বাংলা-১ (সৃজনশীল পুরাতন সিলেবাস) এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্সে সকালে বাংলা-২ এবং বিকালে বাংলা-১ (সৃজনশীল) বিষয়ের পরীক্ষা হয়েছে।
প্রথম দিন ঢাকা বোর্ডে ২ হাজার ৪৮৯ জন, রাজশাহীতে ১ হাজার ২৫৬ জন, কুমিল্লায় ১ হাজার ১৯ জন, যশোরে ১ হাজার ৬১ জন, চট্টগ্রামে ৯৯৮ জন, সিলেটে ৭০৬ জন, বরিশালে ৬৫১ জন এবং দিনাজপুর বোর্ডে ১ হাজার ৬৩ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডে ২ হাজার ৪৮৬ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ১ হাজার ৯৮৯ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে কারিগরি বোর্ডে ৩২ জন, মাদ্রাসা বোর্ডে ৪০ জন, ঢাকা বোর্ডে ৭ জন, বরিশালে ৬ জন, দিনাজপুরে ২ জন এবং যশোর ও সিলেট বোর্ডে একজন করে পরীক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছেন। এ ছাড়া সিলেট বোর্ডে ৪ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ৩ জন পরিদর্শককে বহিষ্কার করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা। এরপর কাল বুধবার অনুষ্ঠিত হবে আরবি প্রথম পত্রের পরীক্ষা। দশ বোর্ডের অধীনে এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ জন শিক্ষার্থী।
