বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, সরকারকে বলব- আপনারা যত ধরনের অত্যাচার-নির্যাতন করুন না কেন এবং যত রকমের ষড়যন্ত্র করেন না কেন বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক শক্তির বিজয় হবে। সেই দিন আওয়ামী লীগ সরকারকে বিদায় নিতে হবে- এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি বলেন, সরকারের এখন উদ্দেশ্য একটাই- খালেদা জিয়াকে জেলখানায় রাখা এবং বাকি শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া যাতে করে বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করে। এমন অবস্থা তৈরি করা যাতে বিএনপি নির্বাচনে আসতে না পারে।
মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)। মওদুদ আহমদ বলেন, আজকে সংবাদপত্রে দেখলাম বিএনপির ৮ নেতার বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগে দুদকের তদন্ত চলছে। আসলে এটা আমাদের শীর্ষ নেতাদের চরিত্র হরণের অপচেষ্টা।
মওদুদ আহমেদ আরও বলেন, অনেক মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আমরাই গঠন করেছিলাম। সত্যিকার অর্থে যারা দুর্নীতি পরায়ণ তাদের দুর্নীতি ধরার জন্য এই কমিশন গঠিত হয়েছিল। কিন্তু এখন এটা একটা সরকারের তল্পিবাহক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে দুদক সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে।
তিনি বলেন,মিথ্যা, ভিত্তিহীন মামলা দিয়ে আমাদের নেতাদের চরিত্র হরণের চেষ্টা হচ্ছে। সরকারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে দুদক। তাদের উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। বেগম জিয়াকে জেলখানায় রাখা, অন্য নেতাদের চরিত্র হরণ, মিথ্যা মামলা দেয়া- এসব কিছুই করা হচ্ছে বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে। এটাই হলো তাদের মূল লক্ষ্য। সরকার ভালো করেই জানে, বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তবে তাদের পরাজয় সুনিশ্চিত। কিন্তু তাদের এই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেয়া হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রীয় খরচে ভোট চাইলে সেখানে আমাদের ঘোর বিরোধিতা আছে। আমাদের নেত্রীকে কারাগারে বন্দি রেখে, নেতাকর্মীদের নামে হাজার হাজার মামলা দিয়ে আপনি ভোট চেয়ে বেড়াবেন, তা তো হয় না। আর প্রধানমন্ত্রীর এমন আচরণেই প্রমাণ হয় তিনি গণতন্ত্র চান না। নিরপেক্ষ ভোট চান না।
ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, জাগপা সভানেত্রী রেহানা প্রধান, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, লেবার পার্টির (একাংশ) মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদি, এনপিপি’র মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা প্রমুখ।
ইত্তেফাক/এমআই
