অব্যবস্থাপনার কারণে শঙ্খ নদীতে এখন চর জেগেছে

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৮, ১১:১৫
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রমত্ততা শঙ্খ নদীর বুকে অব্যবস্থাপনার কারণে জেগে উঠেছে ছোট বড় অসংখ্য চর। এতে মৎস্য সম্পদ ও জৈববৈচিত্র সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। দখল আর জেগে ওঠা চরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বর্ষার শঙ্খ নদী।
 
নদীতে কোথাও দৃশ্যমান চর আর হাঁটু পরিমাণ পানিতে এখন চলাচল করতে পারছে না ইঞ্জিনচালিত নৌকা।বান্দরবানের দুর্গম এলাকা লুসাই পাহাড় থেকে উৎপত্তি হওয়া প্রায় আড়াই শত কিলোমিটার এ প্রমত্ততা শঙ্খ নদী এখন নাব্যতা হারিয়ে মরতে বসলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোন সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেই। শঙ্খ নদী তার দুইতীরে বসবাসরত বাসিন্দাকে বুক উজাড় করে একদিকে সম্পদ দিলেও অন্যদিকে বর্ষায় তার বুক ভাসিয়ে পানিতে কেড়ে নিচ্ছে মানুষের নানা রকম সহায় সম্বল।
 
গ্রীষ্মের সময় জেগে উঠা চরে মরতে বসলেও বর্ষাকালে শঙ্খ নদী ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। পাহাড়ে প্রবল বর্ষণে নেমে আসা ঢলে নদীর পানি বুকে ধারণ করতে না পেরে তখন তার স্রোতধারা তীব্র থেকে তীব্রতর ধারণ করে দুইতীর বাসিয়ে দিয়ে মানুষের ঘরবাড়ি, ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। সেই সময় পাহাড় থেকে আসা পলিমাটিতে ক্রমে ক্রমে জেগে উঠে ছোট বড় অসংখ্য চর। ফলে গ্রীষ্ম মৌসুমে হ্রাস পায় শঙ্খ নদীর গভীরতা। এতে মৎস্য ও জৈববৈচিত্র পড়ে সংকটাবস্থায়। অথচ এক সময় প্রমত্ততা শঙ্খ নদীর কলকল রবে মুখরিত হয়ে উঠেছিল দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাশঁখালী এলাকা।
 
আগেকার দিনে শঙ্খ নদী দিয়ে নৌকাযোগে করা হতো এসব এলাকার ব্যবসা বাণিজ্য। কয়েক দশক ধরে প্রমত্ততা শঙ্খ নদী যেমন তার রূপ পাল্টাচ্ছে তেমনি করে আমূল পরিবর্তন ঘটতে শুরু করছে চারপাশের পরিবেশ এবং জনজীবন। জেগে ওঠা চরের কারণে বর্ষাকালে খর স্রোতা শঙ্খ নদী তার পানি গতি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে দুই তীর প্লাবিত হয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাজার হাজার মানুষ। অভিজ্ঞ মহলের মতে অবৈধভাবে মাটি কাটা ও বন উজাড়ের কারণে বর্ষাকালে ধুয়ে-মুছে পলিমাটি শঙ্খ নদীতে পড়ে নাব্যতা হারিয়ে যেতে বসায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জৈববৈচিত্র স্বাভাবিক বিকাশের ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে মারাত্মক বিপর্যয়।
 
এর পরেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তেমন কোন নজরদারি নেই বললেও চলে। শঙ্খের তীরবর্তী বাসিন্দা আবদুর রহিম, জিন্নাত আলী জানান, মরতে বসা শঙ্খ নদী বাঁচলে বাঁচবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ। আর এই শঙ্খ নদীকে বাঁচাতে হলে ড্রেজিং করা প্রয়োজন। এতে শঙ্খ নদীর তীরে উৎপাদিত সবজি দেশে অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটবে আর শঙ্খ নদী ফিরে পাবে সেই হারানো যৌবন। বিগত ১৬ সালে শেষ নাগাদ পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপনায় শঙ্খ নদীর ২৫ কিমি ও সাতকানিয়া ডলু খালে ড্রেজিং করার বিষয়ে একনেকে প্রস্তাব উত্থাপন করা হলেও তা যে কোন কারণ বশত: সেই প্রস্তাব গৃহীত হয়নি।
 
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (অতিরিক্ত) শওকত ইবনে শাহীদ এর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ইত্তেফাক প্রতিনিধিকে বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর একান্ত প্রচেষ্টায় চলতি অর্থবছরের ৯ ফেব্রুয়ারি শঙ্খ নদীর ড্রেজিং ২১.৮৩ কিলোমিটার ও নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় ১১ কিলোমিটার কাজের প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। যার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ শ' ৩৩ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের কাজ এপ্রিল মাসে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন।
 
চন্দনাইশ উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার চৌধুরী বলেন, শঙ্খ নদীর ড্রেজিং ও তীর সংরক্ষণের জন্য টাকা বরাদ্ধের কথা শুনেছি। ড্রেজিং হলে বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশনে কোন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হবে না এবং ভাঙন ও বন্যার ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে নদীর তীরবর্তী হাজার হাজার মানুষ।
 
ইত্তেফাক/এসএস