গণধর্ষণের সাক্ষী না রাখতে শিশুপুত্রকে হত্যা

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৮, ১৫:০৭
সিলেটের ওসমানীনগরে সেই জোড়া খুনের দায় স্বীকার করেছে আটককৃত তিনজন। মা ছেলেকে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের ৯ দিন পর ওসমানীনগর থানার একদল পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে আটক করে।
 
আটককৃতরা হলেন- উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের গদিয়ারচর গ্রামের মৃত আব্দুল মন্নানের ছেলে নজরুল ইসলাম (২৭), একই গ্রামের আবুল কালামের ছেলে জয়নাল মিয়া (২৮) ও পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের গলমুকাপন গ্রামের জবেক মিয়ার ছেলে জকরুল মিয়া (২২)।
 
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিলেটের প্রথম আদালতের বিচারক নজরুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীতে ওই তিনজন হত্যার দায় স্বীকার করেন। শুধুমাত্র ধর্ষণের উদ্দেশ্যে মা-ছেলেকে অপহরণ করে আটককৃত ওই তিনজন সহ আরও একজন। মাকে ধর্ষণের দৃশ্য দেখে ফেলায় ছেলেকে গলাটিপে হত্যা করে লাশ হাওরে ফেলে দেয়।
 
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ওসমানীনগর থানার ওসি (তদন্ত) এসএম মাঈন উদ্দিন জানান, গত ১৭ মার্চ রাতে ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজার থেকে ৪ জন মিলে হবিগঞ্জের মাধবপুরের মালাকারপাড়ার মৃত অমিত মালাকারের স্ত্রী দীপু মালাকা (৪০) ও তার ছেলে বিকাশ মালাকারকে (৭) অপহরণ করা হয়। পরে অটোরিকশা দিয়ে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় একারাই হাওড়ে। রাতভর হাওরে দীপু মালাকারকে ধর্ষণ করে, এ সময় ছেলে অমিত মালাকার দেখে ফেললে তাকে গলাটিপে হত্যা করে। লাশ দুটি একারাই হাওরে কচুরীপানা দিয়ে চাপা দিয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
 
তিনি বলেন, গত সোমবার দিবাগত রাত ও গতকাল মঙ্গলবার ভোরে গোপন খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ধর্ষণ ও জোড়া খুনে জড়িত ৩ জনকে আটক করে পুলিশ। আটকের পর প্রথমে তারা বিষয়টি অস্বীকার করলেও পুলিশের কৌশলী জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা অপহরণ, ধর্ষণ ও জোড়া খুনে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আটকৃতদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে তারা সমস্ত ঘটনার বিবরণ দেয়। হত্যাকাণ্ডের সময়কার কী অবস্থান ছিলো, কিভাবে হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করে তার বর্ণনা দেয়। এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হলে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আদালতে নিয়ে আসা হয়। আদালতের বিচারক ঘাতকদের জবানবন্দী রেকর্ড করেন।
 
উল্লেখ্য, ২৪ মার্চ উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের একারাই গ্রামের হাওর এলাকা থেকে মৃত দেবেন্দ্র মালাকারের স্ত্রী দিপু মালাকার (৩৬) ও তার শিশু পুত্র পিয়াস মালাকারের (৭) গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানার কাচারী মালাকার পাড়া গ্রামে। নিহত দিপু মালাকার দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার দক্ষিণ গোয়ালাবাজার সারং মিয়ার বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। মা ও ছেলে হত্যার ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে বিজয় মালাকার বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
 
ইত্তেফাক/এসএস