এবার হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ হয়েছে নজিরবিহীন : আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৮, ১৮:১৬
পানি সম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, এ বছর হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে মানুষের পক্ষে যেটুকু করা সম্ভব তার সবটুকু করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কঠোর মনিটরিং ও তার নির্দেশনায় এবার হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ হয়েছে নজিরবিহীন। 
 
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, প্রকৃতির উপর কারো হাত নেই। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে কাজ করা সম্ভব হয়েছে। এ জন্য তিনি মহান আল্লাহর উপর শুকরিয়া আদায় করে বলেন, ঝুঁকি নেয়া চলবে না। জুয়া খেলা চলবে না অর্থাৎ বেশি ফসল পাওয়ার আশায় কৃষকদের ঘরে থাকলে চলবে না। ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ধান কেটে ঘরে তুলতে হবে। 
 
পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবার হাওরের ফসল রক্ষার জন্য টাকাও দিয়েছেন, লোকবলও দিয়েছেন। আমরা চেষ্টা করেছি। বলেছিলাম পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সুনামগঞ্জে নিয়ে আসবো। সেটি করেছি। মন্ত্রী হাস্যরস করে বলেন, আমরা ‘মিছা কথা’ বলি না। আমরা আমাদের কথা রেখেছি। আমরা অফিসার পাঠিয়ে ও সার্বক্ষণিক মনিটরের মাধ্যমে বাঁধের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছি। 
 
বুধবার দুপুর দেড়টায় হাওরের কৃষক ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির প্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের সঙ্গে হাওররক্ষা বাঁধ নিয়ে মতবিনিময়ের সময় পানিসম্পদ মন্ত্রী এ সব কথা বলেন।   
 
পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘মতবিনিময় সভায় সকলেই বলেছেন বাঁধের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে, এতো এতো মাটি পড়েছে। যা মানুষ নাকি কোনো দিন দেখেনি। এখনি এতো প্রশংসা না করে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় নিয়ে এখানকার মানুষের ধারণা ছিল- ‘বর্ষার আগে টাকা দেয়, তিন মাসে সেই টাকা শেষ করে নেয়।’এবার সেই দুর্নাম ঘুছানোর চেষ্টা হয়েছে।’ 
 
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, হাওরাঞ্চলের কৃষকদের ব্রিধান-২৮সহ কম মেয়াদের ধান যেগুলো বর্ষা নামার আগে পাকে সেই ধান আবাদের উপর গুরুত্ব দিতে হবে।
 
সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউস মিলনায়তনে শুরু হওয়া মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন, সুনামগঞ্জে বাঁধ নির্মাণে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হলো- তার প্রশংসার দাবিদার পিআইসি ও স্থানীয় এলাকাবাসী। তিনি বলেন, আগামীতেও সকল উন্নয়ন কাজে জনসাধারণ এভাবে এগিয়ে আসবেন-আশা রাখি। 
 
স্থানীয় সরকারে উপ পরিচলাক মো. এমরান হোসেন এর সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম বীরপ্রতীক, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য শামছুন নাহার বেগম শাহানা, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব কবির বিন আনোয়ার, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ইউসুফ হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মাহফুজুর রহমান, পুলিশ সুপার বরকত উল্লাহ খান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুবকর সিদ্দিক ভূইয়া, জামিল চৌধুরী, দোয়ারাবাজার উপজেলা চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী বীর প্রতীক, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল কালাম, এডভোকেট শফিকুল আলম, মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, মোহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল হক, আবদুস শহীদ, জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ। 
 
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিলেটস্থ চিফ ইঞ্জিনিয়ার জুলফিকার আলী হাওলাদার, সিলেটস্থ তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এস,এম শহীদুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান, জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুম বিল্লাহ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হারুনুর রশীদ, ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন খন্দকার, দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ, বিশ্বম্বরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সমীর বিশ্বাস, দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মইন উদ্দিন ইকবাল, ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাসিরুল্লাহ খান, জামালগঞ্জ সহকারী কমিশনার ভূমি মনিরুল হাসান। 
 
এর আগে হেলিকপ্টারে করে পানি সম্পদ মন্ত্রী জেলা পুলিশ লাইনে অবতরণ করেন। সেখানে মন্ত্রীকে স্বাগত জানান প্রশাসনের উধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক ও জেলা সভাপতি ইফতেখার আহমদ লিমন, জেলা জেপি নেতা সুলাতান মাহমুদ, আবদুল বাতিন, আলীম উদ্দিন, খালিক মোশারফ, মুসাসিদ্দিকী  প্রমুখ। 
 
ইত্তেফাক/ইউবি