আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি নেতাদের দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তলবের বিষয়ে সরকারে কোনও হস্তক্ষেপে নেই। আইন সবার জন্য সমান। আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রীদেরও দুদক তলব করছে। সরকার হস্তপেক্ষ করলে তো তাদের দুদক তলব করতে পারত না। কথায় কথায় সরকারের হস্তক্ষেপ আবিষ্কার করা যেন বিএনপির অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
বুধবার দুপুরে ধানমন্ডিস্থ প্রিয়াঙ্কা কমিউনিটি সেন্টারে মুজিবনগর দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে যৌথ প্রস্তুতি সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, দুদকের কোনো কাজে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপে নেই।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দুদক একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। তারা স্বাধীনভাবে কাজ করছে। আমাদের একজন সংসদ সদস্যকেও দুদক তলব করেছে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম একজন সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী দুদকের মামলায় হাজিরা দিচ্ছেন। সরকার তো কোনও হস্তক্ষেপ করেনি। আর অতীতে কোনো সরকারের সময় রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠান স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি।’ দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলায় সরকার দলের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি যে নিম্ন আদালতে দন্ডিত হয়েছে এই বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তিনি আপিল করেছেন, উচ্চ আদালতে যেটা সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই সিদ্ধান্ত। ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগের এমপি দন্ডিত।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ব্যাংক হিসেবে ১২৫ কোটি টাকা লেনদেনের জন্য বিএনপির আট নেতাকে দুদক তলব করেছে। ‘আওয়ামী লীগের একজন সংসদ সদস্যকেও (বিএইচ হারুন) দুদক তলব করেছে। আর খালেদা জিয়ার দুদকের মামালায় সাজা হয়েছে। তাদের (বিএনপির) অভিযোগ সরকার হস্তক্ষেপ করেছে। সরকার কেন হস্তক্ষেপ করবে?’
বিএনপিকে আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ দল আখ্যায়িত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি হঠাত্ করে দলের গণতন্ত্র থেকে ৭ ধারা বাদ দিয়েছে। এতে বলা ছিল, দুনীতির দায়ে দন্ডিতরা দলের নেতা হতে পারবেন না। এটা বাদ দিয়ে এখন দলটি আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ দলে পরিণত হয়েছে বিএনপি।’ আগামী ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবস যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে এবং মুজিবনগরের কর্মসূচিতে বিপুল জনসমাগম ঘটাতে দলে কেন্দ্রীয়, সংশ্লিষ্ট জেলার নেতাদের নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের।
এছাড়া বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে উত্সবমুখর কর্মসূচি নেওয়ার ঘোষণা দেন। কেন্দ্রীয়ভাবে উত্সবমুখর কর্মসূচি উদযাপনের পাশাপাশি জেলা, উপজেলা পর্যায়ে কর্মসূচি নেওয়ারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিশাল অর্জন এর মধ্যে হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশের কাতারে আমরা পৌঁছেছি। এই উন্নয়নশীল বাংলাদেশের রূপকার যিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমার মনে হয় দলের পক্ষ থেকে একটা অনুষ্ঠানপ্র্রয়োজন। আশা করছি এপ্রিলের শেষে অথবা মে মাসের প্রথম দিকে অনুমোদন পাওয়া যাবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি পেলে আমরা বড় আকারের অনুষ্ঠান করবো।
ইত্তেফাক/এমআই
