সাতক্ষীরার শ্যামনগরে স্ত্রী সালমা খাতুনকে হত্যার দায়ে স্বামী কামরুল ঢালীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। আজ বৃহস্পতিবার দুপরে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক মোছা. হোসনে আরা আক্তার এ রায় প্রদান করেন।
এছাড়া, এ মমালায় বাকি তিন আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত। এদিকে, এ ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি কামরুল ঢালী দীর্ঘদিন উচ্চ আদালতের জামিনে থাকার পর আজ কোর্টে হাজিরা দেওয়ার পর রায় বিপক্ষে যাবে বুঝতে পেরে আদালত চত্বর থেকে তিনি সটকে পড়েন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কামরুল ঢালী (৩৫) শ্যামনগর উপজেলার মীরগাং গ্রামের মৃত বাক্কার ঢালীর ছেলে। এ মামলার খালাস প্রাপ্ত আসামীরা হল, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কামরুল ঢালীর বোন মলিদা খাতুন, ভগ্নীপতি নাজির গাজী ও চাচাতো ভাই মাহমুদ ঢালী।
মামলার বিবরণে জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলার চুনকুড়ি গ্রামের সুন্নত আলী মোল্যার মেয়ে সালমা খাতুনের সাথে ২০০৫ সালে একই উপজেলা মীরগাং গ্রামের কামরুল ঢালীর ইসলামি শরীয়ত মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে কামরুল ঢালী তার শ্বশুর বাড়ি থেকে ১০ হাজার টাকা মূল্যের একটি কাঠের তৈরি নৌকা নেয়। বিয়ের এক বছর পর তাদের একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। এরপরও প্রায়ই কামরুল ঢালী তার স্ত্রীকে যৌতুকের দাবীতে নির্যাতন করতো। এরই জের ধরে ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই দুপুরে কামরুল ঢালী তার স্ত্রীকে ঘরের হাঁক দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। এক পর্যায়ে সে তার স্ত্রী সালমা খাতুনের মুখে শাড়ি ঢুকিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মুখে বিষ ঢেলে দেয়। পরে, নিহতের স্বামী কামরুল ঢালীর দেয়া তথ্য মতে ওই দিনই শ্যামনগর থানায় ২২/৯ নম্বর একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। যার তদন্ত দেয়া হয় পি এসআই শেখ ওহিদুজ্জামানের উপর। এদিকে, সালমা খাতুনের মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে তার পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতের ভাই রাশেদুল মোল্যা বাদী হয়ে প্রথমে কোর্টে ও পরে একই বছরের অক্টোবর মাসের ২ তারিখে শ্যামনগর থানায় নিহতের স্বামী কামরুল ঢালীকে প্রধান আসামি করে চার জনের নামে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয় শ্যামনগর থানার এসআই অমিনা রানী দাসকে। তিনি দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১০ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি এ মামলায় চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।
মামলার নথি ও ১১ জন সাক্ষীর জবানবন্দী দীর্ঘ পর্যালোচনা শেষে বিচারক আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এ মামলার এক নম্বর আসামি কামরুল ঢালীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ ও ৫০ হাজার জরিমানা করেন। অপরদিকে, নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় বাকী তিন আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়।
মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন সাবেক পিপি অ্যাড. আবু বক্কর ছিদ্দিক। অপরদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিশেষ পিপি অ্যাড. জহুরুল হায়দার।
ইত্তেফাক/এসএস
