পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার বিষয়ে মঙ্গলবার দুপুরে তাদের মধ্যে কথা হয়েছে। তবে সেই প্রসঙ্গ ছাপিয়ে রাহুল-মমতার এই সরাসরি কথা মোদী-বিরোধী রাজনীতিতে অনেক ভুল বোঝাবুঝির জট খুলে দিয়েছে।
মমতা যখন দিল্লি এসেছিলেন, তখন রাহুল ব্যস্ত ছিলেন কর্নাটকের প্রচারে। সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে মমতা ১০ জনপথে গেলেও কংগ্রেস প্রধানের সঙ্গে তার দেখা হয়নি। ওইদিন রাহুল ফোন করে ইমপিচমেন্টের বিষয়ে মমতার মতামত জানতে চান। এই প্রস্তাব আনার জন্য শরদ পাওয়ার চাপ দিয়েছিলেন। কংগ্রেসও সায় দিয়েছিল। দিল্লিতে মমতা বলেছিলেন, সব দল যদি চায়, তবেই তৃণমূল একে সমর্থন করবে। কিন্তু তৃণমূল এখনও সেই প্রস্তাবে সই না করায় মমতাকে ফোন করেন রাহুল।
রাজধানীর কংগ্রেস সূত্রের মতে, মমতা রাহুলকে জানিয়েছেন, আইনজ্ঞদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনা যায়। কিন্তু রাজনৈতিক বিষয়ে থাকলে তা ধোপে টেকা কঠিন। এখন একজোট হয়ে বিরোধীরা এই প্রস্তাব এনে যদি হেরে যায়, তা হলে লোকসভা ভোটের আগে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হবে। এ বিষয়ে ডিএমকে নেতা এম কে স্ট্যালিনের সঙ্গেও কথা বলেছেন মমতা। ডিএমকে তার সঙ্গে সহমত। মমতার মত স্বীকার করে নিয়েছেন রাহুলও। তাকে জানিয়েছেন, তৃণমূল, ডিএমকের প্রতি আস্থা রেখে কংগ্রেস এই রাস্তা থেকে সরে আসবে।
কংগ্রেস সূত্র বলছে, ইমপিচমেন্ট প্রসঙ্গে মমতা-রাহুল কথা হলেও এই মুহূর্তে সেটা প্রধান ব্যাপার নয়। আসল কথা হলো, দু’জনের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলা এবং মোদী-বিরোধী লড়াইয়ে পরস্পরের কাছাকাছি আসা। তৃণমূল নেত্রীর দিল্লি সফরের সময়ে বিজেপি মমতার প্রস্তাবিত ফেডারেল ফ্রন্টের সঙ্গে কংগ্রেসের ঝগড়া বাঁধানোর চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে।-আনন্দবাজার পত্রিকা।
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ
