ধর্ষণ-হত্যা চেষ্টা: উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা হলো অগ্নিদগ্ধ তরুণীর

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৮, ১৫:৫৫
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সৎ বাবা কর্তৃক মেয়েকে ধর্ষণ ও গ্যাসের আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টায় আলোচিত সেই মেয়েটির উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম। 
 
শুক্রবার (৬ এপ্রিল) সকালে তিনি ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে গিয়ে তার সাথে দেখা করেন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার ডা. নাছির উদ্দিনের সাথে কথা বলেন। এসময় তিনি মেয়েটির মাকে বলেন, আপনি একা নন আমরা আপনার পাশে আছি। আপনার মেয়ে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তার সকল চিকিৎসার খরচ আমি চালাবো।
 
এর পূর্বে গত বুধবার রাতে ঢাকা মেডিলের বার্ন ইউনিটে মুন্নি সিট না পাওয়ায় মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম ঢাকা মেডিকেলের পরিচালকের সাথে কথা বলে তার জন্য স্পেশাল সিটের (যার নং ৬৩০) ব্যবস্থা করেন।
 
গত ৪ এপ্রিল (বুধবার) হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বৈশাখী বড়ুয়া ও বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রোটা. আহসান হাবিব অরুনের সহযোগিতায় মুন্নিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। ওই দিনই দুপরে হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান টুটুল, নতুনেরডাক পত্রিকার সহ-সম্পাদক মোহাম্মদ হাবীবউল্যাহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তার ওপর নির্যাতনের বিষয়টি খুলে বলেন।
 
তিনি উপজেলার ৭নং বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের নাটেহারা গ্রামের আবু বকরের মেয়ে। আবু বকর লাইলি বেগমকে তালাক দেয়ার পর সে আবদুল লতিফকে বিয়ে করে।
 
উল্লেখ্য, সৎ বাবা আবদুল লতিফ মেয়েটিকে দীর্ঘদিন ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে আসছে। একদিন ধর্ষণের সময় বিষয়টি তার স্বামী সোহাগ দেখে ফেলে। এরপর সোহাগকে মারধর করে তাদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়।
 
এর কয়েক দিনপর গত ২৩ মার্চ সোমবার বিকেলে হাজীগঞ্জ বাজারস্থ হকার্স মার্কেটের আলমগীরের ভাড়া বাড়িতে সেই মেযেটিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্যাসের আগুনে পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করে আবদুল লতিফ।
 
খবরটি মোবাইল ফোনে তার স্বামী সোহাগকে জানানো হয়। সোহাগ ওই বাড়িতে আসলে তরুণীটিকে সাথে নিয়ে সৎ বাবা আবদুল লতিফ ও মা লাইলি বেগমসহ হাজীগঞ্জ থানায় যায়।
 
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাং জাবেদুল ইসলাম তরুনীটির সাথে কথা বলতে চাইলে তার সৎ বাবা লতিফ থামিয়ে দিয়ে বলেন, সোহাগ তাকে যৌতুকের জন্য আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করে। তখনই পুলিশ সোহাগকে আটক করে। পরে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে হাজীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাবেদুল ইসলাম ও ওসি (তদন্ত) আবদুল মান্নান অধিকতর তদন্ত করে এবং অগ্নিদগ্ধ জরিনার (ছদ্মনাম) সাথে কথা বলে এ লোমহর্ষক ঘটনা জানতে পারে। পরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সাংবাদিকদের (বক্তব্যের অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত আছে)।
 
হাজীগঞ্জ থানার ওসি মোহাং জাবেদুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী ও মুন্নির স্বামী দু’জনেই প্রতিবন্ধী। আমরা প্রাথমিক তদন্ত শেষ করেছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলামের (বীরউত্তম) নির্দেশে বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করছি। এমন একজন প্রতিবন্ধী মেয়ের ওপর তার সৎ বাবা দীর্ঘ দিন ধরেই ধর্ষণ করে আসছে। ভয়ে মেয়েটি তা প্রকাশ করেনি।
 
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম এমপির সাথে চিকিৎসক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হাজীগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত আবদুল মান্নান, শাহরাস্তি উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আহছান মঞ্জুরুল ইসলাম জুয়েল।
 
ইত্তেফাক/এমআই