সুস্থ হয়ে আজ ঢাকা মেডিক্যাল ছাড়ছেন স্বামী-কন্যাহারা এ্যানি

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৮, ০৯:০৯
‘এখন ভালো আছি, কোন সমস্যা নাই, শুধু মেয়েটার কথা মনে পড়ে...’। মোবাইল ফোনে আড়াই বছর বয়সী প্রিয়ন্ময়ীর ছবি দেখিয়ে এ্যানি আরো বলেন, আমার মেয়েটা খুব সুুন্দর করে কথা বলত। নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় স্বামী-সন্তানহারা এ্যানির কাছে তার মেয়ে এখন শুধুই ছবি।   
 
গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের ছয় তলার চার নম্বর ভিআইপি কেবিনে কথা হয়, আলীমুন নাহার এ্যানির সঙ্গে। সুস্থ হয়ে আজ মঙ্গলবার এ্যানির হাসপাতাল ছাড়ার কথা রয়েছে।
 
গতকাল কেবিনে ঢুকতেই দেখা গেল, কালো সালোয়ার-কামিজ ও ওড়না মাথায় বিছানায় নিশ্চুপ বসে আছেন এ্যানি। পাশে বিছানায় বসে খাচ্ছিলেন এ্যানির ছোট বোন ও মা। এ্যানি নিজে থেকেই ছোটবোনের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে মেয়ের দুটো ভিডিও ও স্টিল ছবি দেখান। বলেন, আমাদের বিয়ের পরপরই মেয়েটার জন্ম। ওর বয়স ছিল আড়াই বছর। এ্যানি বলেন, আমার স্বামী ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফি করতো। ওর কোন ধরাবাঁধা চাকরি ভালো লাগতো না। ফটোগ্রাফিতে অনেক অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছে।
 
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে শ্বশুরবাড়ি ও বাবার বাড়ি দুই জায়গাতেই থাকবেন বলে জানান এানি। এসময় এ্যানির মা-বাবা, মেয়ের জন্য দোয়া চান। বলেন, মেয়েটার কম বয়সেই বিয়ে দিয়েছিলাম, এখন এ্যানির বয়স ২২ বছর। গাজীপুরের একটি কলেজে সমাজবিজ্ঞানে অনার্স পড়ছেন এ্যানি।  
 
এ্যানির বাবা সালাউদ্দিন জানান, মঙ্গলবার সকালে এ্যানিকে রিলিজ দেয়া হবে। সকাল সাড়ে ৯টা, ১০টার দিকে যেতে চাই। আমরা এ্যানির শ্বশুর বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুরে কিছুক্ষণ থেকে আমাদের বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশাল চলে যাব।  
 
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন. মেয়েটা এখন ভালো আছে। তবে সেহরিন চলে যাওয়াতে ও একটু আপসেট হয়েছে, ওদের মধ্যে ওতো একা এখানে, আর তো কেউ নাই। ওর সঙ্গে আমি কথা বলেছি, সাইকোলজিস্টের সঙ্গে কথা বলেছি। বলেছে এ্যানি যেতে পারে, বাড়ি যাক, বাড়ি গেলে হয়তো ভালো লাগবে। তার শারীরিক অবস্থা ভালো, তার মানসিক অবস্থা খারাপ হতেই পারে, তার স্বামী সন্তান মারা গেছে। তবে ওকে আমি একটা ক্লোজ অবজারভেশনে রাখার চেষ্টা করছি।
 
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের আগ মুহূর্তে বিধ্বস্ত হয়। ওই ফ্লাইটেই নেপাল ভ্রমণে যাচ্ছিলেন এ্যানি ও তার স্বামী ফারুক আহমেদ প্রিয়ক ও সন্তান প্রিয়ন্ময়ী। দুর্ঘটনায় নিহত হন এ্যানির স্বামী প্রিয়ক ও সন্তান প্রিয়ন্ময়ী। আহত অবস্থায় নেপাল থেকে ১৬ মার্চ এ্যানিকে দেশে এনে ভর্তি করা হয় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে।